Showing posts with label নবীর বিয়ে. Show all posts
Showing posts with label নবীর বিয়ে. Show all posts

উত্তর দিয়েছেন

ভাই শাফিউর রহমান ফারাবী

 

উম্মে হানীকে কেন্দ্র করে নাস্তিকদের সব অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব
=======================
লেখক:শাফিউর রহমান ফারাবী
================================================
আজ থেকে ৫ বছর আগে আমি যখন ব্লগজগতে প্রবেশ করি তখন থেকেই আমি দেখছি আবুল কাশেম টাইপ নামক কিছু মুক্তমনা ব্লগাররা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে উম্মে হানীর একটা অনৈতিক সম্পর্ক ছিল তা বলে বেড়াত।

কিন্তু কে এই উম্মে হানী, উনার পরিচয় কি বা এই উম্মে হানীর বয়স কত সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। শুধু আমি না অনেক মুসলমানই এই উম্মে হানী সম্পর্কে কিছুই জানে না। আর এই না জানার সুযোগটাই নিয়েছে নাস্তিকরা। আমরা এখন উম্মে হানীকে নিয়ে এইসব লোকদের নাস্তিকদের ব্যবচ্ছেদ করবো।

উম্মে হানী নামক এই মহিয়সী সাহাবিয়্যার নাম ছিল ফাখতা। হিন্দ নামেও উনাকে ডাকা হত। বিয়ের পর উনি উম্মে হানী নামে পরিচিত হন। উম্মে হানী ছিল উনার কুনিয়াত। উম্মে হানী ছিলেন রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচা আবু তালেবের জ্যৈষ্ঠ কন্যা ও হযরত আলীর বড় বোন। অর্থ্যাৎ উম্মে হানী ছিলেন রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচাত বোন।

তিনি রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম বয়স্কা ছিলেন। তবে অনেক রেওয়াতে পাওয়া যায় উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন তবে অধিকাংশ সীরাতবিদ উম্মে হানী কে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমবয়সী বলেছেন।

তাহলে অধিকাংশ সীরাতবিদের কথামত মেরাজের ঘটনার সময় উম্মে হানী ও রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উভয়ের বয়সই ছিল ৫০ এর উপরে।
যুবক বয়সেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু তালেবের কাছে উম্মে হানীকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু আবু তালেব রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তার মেয়ের বিয়ে না দেয়ার কারণ ছিল তিনি আগেই হুবাইরা বিন আয়েয আল মাখযুমীকে বিয়ের ব্যাপারে কথা দিয়ে দিয়েছিলেন। পরে হুবায়রার
সাথেই উম্মে হানীর বিয়ে হয়েছিল। আমরা জানি আরবগণ কারও সাথে কথা দিলে যে কোন মূল্যে তা পালন করত। এটা আরবদের একটি উল্লেখ যোগ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তাই খুব স্বভাবতই আবু তালেব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন নি।

কিন্ত তাই বলে কি আত্মীয়তার সম্পর্ক সেখানেই শেষ হয়ে গেল? না হল না। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণেই আপন চাচাত বোন হিসাবে উম্মে হানীর সাথে দেখা স্বাক্ষাৎ বা
যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

আবু তালেবের গৃহে একই সঙ্গে লালিত পালিত হওয়ায় উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সহোদরের ন্যায় স্নেহ করতেন। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল আপন ভাই বোনের মত। উম্মে হানীর স্বামীর নাম ছিল হুবায়রা। উম্মে হানীর চার সন্তান ছিল। তাদের নাম হল: আমর, জাদাহ, হানী এবং ইউসুফ। অর্থ্যাৎ উনার প্রথম সন্তান হানীর নামে উনাকে উম্মে হানী বলে ডাকা হত। খাদিজা রাযিয়াল্লাহ আনহা ও আবু তালেবের মৃত্যুর পর রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব অসহায় হয়ে পরেছিলেন।

সেই সময় সালাত আদায় করতে গেলে কাফেররা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার উপর উটের নাড়ি ভূড়ি ফেলে দিত। মক্কী জীবনে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রভাবশালী সাহাবীদের গৃহে অবস্থান করে অন্যান্য সাহাবীদের কে দ্বীন শিক্ষা দিতেন। যেমন সাহাবী আরকাম ইবনে আবুল আরকামের ঘর সাফা পাহাড়ের উপর অবস্থিত ছিল। তাই নব্যুয়তের ৫ম বছর থেকে দারে আরকাম কে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের দাওয়াত এবং মুসলমানদের সাথে মেলামেশার কেন্দ্ররুপে নির্ধারন করেন।

যেহেতু উম্মে হানী এবং উনার ২ ভাই হযরত আলী ও জাফর উনারা উভয়েই মুসলমান ছিলেন ও উম্মে হানীর স্বামী হুবায়রা মুসলমান না হলেও রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন তাই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে উম্মে হানীর গৃহে সালাত আদায় করতেন এবং অন্যান্য সাহাবীদের
কে দ্বীন ইসলাম শিক্ষা দিতেন। উম্মে হানীর ঘর কাবা শরীফের খুব সন্নিকটেই ছিল।

উম্মে হানী বিনতে আবু তালেব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- “ আমি রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের কিরাত আমার চাদোয়া বা তাবুর নিচ থেকে শুনতাম। “ অর্থ্যাৎ রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কাবা শরিফে রাতে সালাত আদায় করতেন তখন তা উম্মে হানী উনার ঘর থেকেই শুনতে পেতেন। আর উম্মে হানীর পিতা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচা আবু তালেব তো সব সময়ই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাকাঙ্গী ছিলেন। আর হাশেমী গোত্র সব সময়ই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে ছিল। আর উম্মে হানীর স্বামী হুবায়রা কখনই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কোন বিরুপ মন মানসিকতা পোষন করতেন না।

তাই আমরা বুঝতে পারছি যে উম্মে হানীর পরিবার পরিজনের বেশীর ভাগ সদস্য ও উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচাত বোন হবার কারনে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহকে নিরাপদভাবতেন। ব্যাস এতটুকুই।  কিন্তু নাস্তিকরা কি চমৎকার ভাবেই না এই উম্মে হানীকে কেন্দ্র করে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আজেবাজে কথা বলা যাচ্ছ। কিন্তু গাধার দল এটা জানে না এই মেরাজের ঘটনার সময় এই উম্মে হানীর বয়স ছিল ৫০ বছর। ৫০ বছর বয়সী মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচাত বোন উম্মে হানী এখন নাস্তিকদের চোখে বিশ্ব সুন্দরী। সীরাত সাহিত্যে পাওয়া যায় মেরাজের রাত্রিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহে ছিলেন।


কিন্তু সহীহ হাদিসগুলিতে এই সম্পর্কে কিছু পাওয়া
যায় না।
# মিরাজের_রাতে_রাসূল_সাল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়া___
সাল্লাম_কোথায়_অবস্থান_করছিলেন ?
সহীহ বুখারীর বণর্নায় মেরাজের রাতে রাসূল
সাল্লালাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম হাতীমে কাবায়
অবস্থান করছিলেন।
)) ﺃَﻥَّ ﻧَﺒِﻰَّ ﺍﻟﻠَّﻪِ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﺣَﺪَّﺛَﻬُﻢْ ﻋَﻦْ
ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺃُﺳْﺮِﻯَ ﺑِﻪِ ‏« ﺑَﻴْﻨَﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺤَﻄِﻴﻢِ – ﻭَﺭُﺑَّﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ
ﻓِﻰ ﺍﻟْﺤِﺠْﺮِ – ﻣُﻀْﻄَﺠِﻌًﺎ ، ﺇِﺫْ ﺃَﺗَﺎﻧِﻰ ﺁﺕٍ ((
“আল্লাহর নবী (সাল্লালাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম)
ইসরার রাতের ঘটনা প্রসেঙ্গে বলেন: আমি
তখন হাতীমে কাবা অথবা বলেছেন, হিজরে চিৎ
হয়ে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ একজন আগন্তুক
আসল…)”। (সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ মিরাজ)
আর সুনান তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে:
ﺑﻴﻨﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﺎﺋﻢ ﻭﺍﻟﻴﻘﻈﺎﻥ
“আমি তখন (ইসরার সময়) বাইতুল্লাহ তথা কাবা
শরীফের নিকট ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থার মাঝে
অবস্থান করছিলাম…।” (হাদীস নং ৩৬৬৯)
মিরাজের রাত্রিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের উম্মে হানীর ঘরে থাকার কথা কোন
গ্রহণযোগ্য হাদীস গ্রন্থে পাওয়া যায় না তবে
সীরাত গ্রন্থ গুলিতে এই বিষয় নিয়ে লেখা
আছে।
সীরাতে ইবনে হিশাম আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ
এই গ্রন্থগুলিতে উম্মে হানীর বক্তব্য পড়লে
বুঝা যায় রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
মেরাজের রাত্রিতে উম্মে হানীর গৃহে
অবস্থান করলেও রাতের বেলায় কাবা শরীফে
চলে গিয়েছিলেন। তারপর কাবা শরীফ থেকেই
হযরত জিবরাঈল উনাকে নিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে
যায়। যেহেতু সহীহ হাদীস সমূহতে বলা আছে
যে কাবা শরীফ থেকেই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজ শুরু হয়েছিল তাই
মেরাজের রাত্রিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম যে কাবা শরীফেই ছিলেন তাতে
কোন সন্দেহ নাই।
উম্মে হানী বলেনঃ রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের মেরাজ আমার ঘর থেকেই হয়।
সে রাতে তিনি এশার নামায আদায় করে আমার ঘরে
ঘুমান। আমরাও ঘুমিয়ে পড়ি। ফজরের অব্যবহিতের
পূর্বে তিনি আমাদের কে ঘুম থেকে জাগান।
তারপর তিনি ফজরের নামায পড়েন এবং আমরাও তাঁর
সাথে নামায পড়ি। তারপর তিনি বলেনঃ উম্মে হানী!
তুমি দেখেছিলে, গতরাতে আমি এই উপত্যকায়
এশার নামায আদায় করেছিলাম। তারপর আমি বায়তুল
মোকাদ্দাসে যাই এবং সেখানে নামায আদায় করি।
আর এখন আমি ফজরের নামায তোমাদের সাথে
আদায় করলাম, যা তোমরা দেখতে পেলে। তাই
উম্মে হানীর বক্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে কাবা
শরীফে যাওয়ার আগের সময়টা রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহেই
অবস্থান করেছিলেন।
সীরাত গ্রন্থ গুলিতে মেরাজ রাত্রির ব্যাপারে
উম্মে হানীর যে বক্তব্য আছে তা আমরা এখন
একটু দেখি- “উম্মে হানী বলেন: “তিনি রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে রাতে (ইসরার
রাতে) ‘আমাদের’ নিকট ঘুমান। তিনি এশার নামায আদায়
করে ঘুমালেন। ‘আমরা’ও ঘুমালাম। অত:পর ফজর
হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি ‘আমাদের’কে ঘুম
থেকে জাগালেন অত:পর ইসরা ও মিরাজের ঘটনা
‘আমাদের’ নিকট বর্ণনা করলেন।” এখানেও
বহুবচন। এখানে আমরা দেখি উম্মে হানী
আমাদের শব্দটি ব্যবহার করেছেন। “ অত:পর
ফজর হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি ‘আমাদের’কে
ঘুম থেকে জাগালেন অত:পর ইসরা ও মিরাজের
ঘটনা ‘আমাদের’ নিকট বর্ণনা করলেন।” এখন
উম্মে হানী যদি ঘরে একাই থাকতেন তাইলে
তিনি কি আমাদের এই শব্দটি ব্যবহার করতেন ? তখন
তিনি শুধু আমাকে এই শব্দটি ব্যবহার করতেন
অর্থ্যাৎ উম্মে হানী তখন বলত“তিনি ফজরের
কিছুক্ষণ আগে ‘আমাকে’ ঘুম থেকে জাগালেন।
স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে, উম্মে হানী একাকি
বাড়ীতে ছিলেন না। তার সাথে আরও মানুষ জন
ছিল। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি তার স্বামী ও চার
সন্তান ছিল। সুতরাং এটা তো খুব স্বাভাবিক যে তার
বাড়ীতে তার স্বামী, সন্তান ও উনার দাসী
থাকবে। আর আমি আগেই তো বলছি উম্মে
হানীর আপন ২ ভাই হযরত আলী ও জাফর তারা
মুসলমান ছিলেন এবং উনারা উম্মে হানীর গৃহে
দ্বীন শিক্ষা করতেন।
যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেই ঐ রাত্রিতে
উম্মে হানীর স্বামী বাড়িতে ছিল না তাও কিন্তু
উম্মে হানীর সন্তান, উনার আপন ২ ভাই ও উনার
দাসদাসী বাড়িতে ছিল।
মেরাজের রাত্রিতে উম্মে হানীর বাড়িতে
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
যাওয়াটাকে একটু সহজভাবে আপনাদের কে বুঝাই।
ধরেন কোন কারনে আপনি যদি আপনার আপন
চাচাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান এবং
সেইখানে রাত্রিযাপন করেন, আপনার চাচাত
বোনের বাসায় তার স্বামী, সন্তান ও বাসার
কাজের লোকও ছিল তাইলে কারো সামনে
সেই প্রসঙ্গ তোলার সময় কেউ কি এই কথা
ভাববে যে আপনি আপনার চাচাতো বোনের
সাথে রাত কাটিয়েছেন ?
অথবা, অন্য কেউ যদি তার চাচাতো বোনের
বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং রাত্রিযাপন করে,
তাইলে আপনি কি ধরে নেন যে সে আসলে
তার চাচাতো বোনের সাথে রাত কাটিয়েছে?
আর যদি আমরা ধরে নেই আপনার বয়স ৫০ বছর ও
আপনার আপন চাচত বোনের বয়সও ৫০ বছর আর
কোন কারনে আপনি আপনার ৫০ বছর বয়স্ক চাচাত
বোনের বাড়িতে এক রাত ছিলেন তাইলে এই
কথার প্রসঙ্গ ধরে কেউ যদি বলে আপনি
আপনার ৫০ বছর বয়স্ক আপন চাচাত বোনের
সাথে রাত কাটিয়েছেন তাইলে তাকে এক কথায়
আমরা পাগল ছাড়া আর কি বলতে পারি। ঠিক এই
পাগলামিটাই দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ব্লগ জগতে
চলছে যে মিরাজের রাত্রিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহে ছিলেন
তাই উম্মে হানীর সাথে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৈহিক মিলন হয়েছিল।
নাউযুবিল্লাহ।
কিন্তু গাধার দল এটা জানে না যে উম্মে হানী ছিল
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন
চাচাত বোন এবং মেরাজের ঘটনার সময় উম্মে
হানী ও রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাদের উভয়ের বয়সই ছিল ৫০ এর উপরে। এবং
মিরাজ রাত্রিতে উম্মে হানীর ঘরে উনার সন্তান,
উনার আপন ২ ভাই হযরত আলী ও জাফর এবং উনার
দাসী ছিল।
নাস্তিকরা Lings, Martin এর লেখা “Muhammad
his life based on the earliest sources” এই বই
থেকে উম্মে হানীর প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে
আসে। Lings, Martin এর বইটা বিভিন্ন প্রাচীন
সীরাত গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে লেখা
হয়েছে।
Lings, Martin এর লেখা বইতে উম্মে হানীর
সম্পর্কে কি বলা আছে তা আমরা এখন একটু
দেখি “ if it was the time for a prayer during
one of these visits, the # Muslims of the
household would pray together. রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো
ভিজিটের সময় নামাজের সময় হলে ঘরের
মুসলিমগন (ঘরের মুসলিম শুধু উম্মে হানি হলে
মুসলিমগন বলা হতো না) একসাথে নামাজ পড়তেন।
এমনকী উম্মে হানি এবং উনার মেয়ে হানী –
ঘরের যদি শুধু এই দুজনও মুসলিম হতেন তাহলেও
এভাবে বলাটাই স্বাভাবিক হতো যে হানী এবং
উম্মে হানি মুহম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর
পেছনে নামাজ পড়তেন। সুতরাং ধারণা করাই যায়,
হানী এবং উম্মে হানি ছাড়াও আরো কেউ কেউ
(তার ভাইরা) রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের এর পিছে তখন নামায পড়ত। সুতরাং
বাড়িতে উম্মে হানীর স্বামী হুবাইরা না থাকলেও
উম্মে হানি একা থাকতেন না, এটুকু নিশ্চিত হওয়া
গেল।
on one occasion, when # they had all prayed
the night prayer behind the Prophet, Umm
Hani’ invited him to spend the night with
them.
He accepted her invitation; but after a brief
sleep he rose and went to the Mosque, for he
loved to visit the Ka’bah during the night
hours. While he was there, the desire to sleep
came over him again, and he lay down in the
Hijr.
“Whilst I was sleeping in the Hijr,” he said,
“Gabriel came to me…
একবার উনারা সবাই নবীর পিছনে নামাজ পড়লেন।
এর পর উম্মে হানী নবীকে আমন্ত্রণ
জানালেন তাঁদের সাথে রাত্রি যাপনের। মুহাম্মদ
সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। কিন্তু অল্প
কিছুক্ষণ ঘুমের পরই উঠলেন এবং মসজিদে চলে
গেলেন। কেননা কাবায় রাত্রি কাটাতে নবী
অতিশয় পছন্দ করতেন।
একবার যখন তারা সবাই প্রফেটের পেছনে নামাজ
পড়ে নিলেন,…
এখানে যে অকেশনের কথা বলা হচ্ছে,
বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে, ইসরা এবং
মিরাজের দিনের কথাই বলা হচ্ছে। সেদিন যখন
তারা সবাই প্রফেটের পেছে নামাজ পড়া শেষ
করলেন, তখনকার কথা হচ্ছে।
প্রফেট ছাড়াই বাকিদের কথা বলতে বলা হচ্ছে
সবাই। অর্থাৎ, বাকি সবাই নিশ্চয়ই উম্মে হানি একা নন
আমি বলতে চাচ্ছি, উম্মে হানি একা হলে নিশ্চয়ই
বাকি সবাই বলা হতো না। এমনকী, যদি উম্মে হানি
এবং উনার মেয়ে হানী –এই দুজনও থাকতেন তবু
মুহম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদে বাকিদের
জন্য সবাই বলার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না।
উম্মে হানি এবং হানী বলাটাই স্বাভাবিক হতো। সুতরাং
বাড়িতে যদি উম্মে হানীর স্বামী হুবাইরা না-ও
থাকতেন, তবু উম্মে হানি একা ছিলেন না। এতটুকু
নিশ্চিত হওয়া গেল।
মিরাজ রাত্রির ঘটনাটা ইবনে ইসহাক -এর উদ্ধৃত অংশটা
আমরা দেখি:
He prayed the final night prayer, then he slept
and we slept. A little before dawn the apostle
woke us, and when we had prayed the dawn
prayer he said, “O Umm Hani’, I prayed with
you…
# ক. then he slept and we slept…(তিনি ঘুমালেন,
এবং আমরা ঘুমালাম)
# খ . A little before dawn the apostle woke us…
(জাগালেন আমাদের…, এইখানে আমাদের মানে
কী, সেটা বোঝার জন্য নিশ্চয়ই খুব সূক্ষ্ম বুদ্ধি
দরকার নাই। যদি শুধু উম্মে হানি-ই থাকতেন, তাহলে
ডাকার সময় ” the apostle woke us” বলা হবে
কেন? বলা হতো ” the apostle woke me”.
তারপর বলেন, ডাকার পর নামাজ পড়লেন, মানে
কী? যাদেরকে ডাকলেন, তাদের সবাইকে
নামাজ পড়ার জন্যই ডাকলেন, তাই না? যাদেরকে
ডাকলেন, তারা যদি নামাজ না-ই পড়বে, তাহলে
তাদেরকে ডাকবেন কেন?
তার মানেই তো নামাজে উম্মে হানি ছাড়াও
আরো কেউ কেউ ছিলো।
আর উম্মে হানীর গৃহে যে দাসীও থাকত এই
কথাও কিন্তু উম্মে হানী নিজেই বলেছেন।
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন
মিরাজের ঘটনা কাফেরদের কে বলতে চাইলেন
তখন আমি বললাম: “হে আল্লাহর নবী, আপনি এই
সংবাদ কাউকে জানাবেন না। কারণ এই সংবাদ জানলে
তারা আপনাকে মিথ্যুক বলবে এবং অপমান করবে।“
তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম, আমি তাদেরকে
জানাবই।“ আমি আমার ক্রীতদাসীকে নির্দেশ
দিলাম: “তুমি নবীকে অনুসরণ কর আর শ্রবণ কর
উনি কি বলেন, আর তারা কি বলে।“ (ইবনে ইসহাক,
পৃঃ ১৮৪)
তাইলে আমরা সীরাত গ্রন্থগুলি থেকে ও
নাস্তিকদের প্রিয় বই Lings, Martin এর লেখা
“Muhammad his life based on the earliest
sources,” এর রেফারেন্স গুলি থেকে যা বুঝলাম
তা হল মেরাজের রাত্রিতে উম্মে হানী একাকী
বাড়িতে ছিলেন না। মেরাজের রাত্রিতে উম্মে
হানীর স্বামী যদি নাও থাকে তাও উম্মে হানীর
গৃহে উনার সন্তান, উনার ২ আপন ভাই হযরত আলী
ও জাফর এবং উনার দাসী ছিল।
আমি নাস্তিকদের কে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি
{{He used to sleep in her house, when no one
was around.}} উম্মে হানীর সাথে রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই জাতীয়
কোন সম্পর্ক আমাকে কোন নির্ভরযোগ্য
সীরাত গ্রন্থ থেকে বের করে নিয়ে এসে
দেখাক।
উম্মে হানী বলেনঃ রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের মেরাজ আমার ঘর থেকেই হয়।
সে রাতে তিনি এশার নামায আদায় করে আমার ঘরে
ঘুমান। আমরাও ঘুমিয়ে পড়ি। ফজরের অব্যবহিতের
পূর্বে তিনি আমাদের কে ঘুম থেকে জাগান।
তারপর তিনি ফজরের নামায পড়েন এবং আমরাও তাঁর
সাথে নামায পড়ি।
তারপর তিনি বলেনঃ উম্মে হানী! তুমি
দেখেছিলে, গত রাতে আমি এই উপত্যকায় ঈশার
নামায আদায় করেছিলাম। তারপর আমি বায়তুল
মোকাদ্দাসে যাই এবং সেখানে নামায আদায় করি।
আর এখন আমি ফজরের নামায তোমাদের সাথে
আদায় করলাম, যা তোমরা দেখতে পেলে।
তারপর তিনি বাইরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। আমি
তাঁর চাদরের এক কোণা টেনে ধরলাম। ফলে
তাঁর পেটের একাংশ বেরিয়ে যায়। তখন তা
মিসরীয় কিবতী ভাঁজ করা কাতান বস্ত্রের মত
দেখাচ্ছিল। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! একথা
আর কাউকে বলবেন না। এমন কথা তারা বিশ্বাস
করবে না এবং তারা আপনাকে কষ্ট দিবে।
তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! একথা আমি
তাদেরকে বলবই। নাস্তিকরা উম্মে হানীর
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই কাপড়
ধরে টেনে ধরা এই প্রসঙ্গ টা টেনে নিয়ে
এসে অনেক অশ্লীল কথা বলে।
কিন্তু আপনারা এখানে খেয়াল করুন, এই ঘটনাটা
ঘটেছে নামাজ পড়ার পর। এবং বাড়িতে যেহেতু
উম্মে হানি এবং ফাতিমা ছাড়াও আরো অনেকেই
ছিলেন সেহেতু এই টানাটানিটা অনেকের সামনেই
হয়েছিলো।
উম্মে হানীর স্বামী আবু হুবায়রা মক্কা বিজয়ের
সময় মুশরিক অবস্থায় নাজরানের দিকে পালিয়ে যায়।
নাজরান থেকে প্রত্যাবর্তন ও তার ইসলাম গ্রহণ
সম্বন্ধে কোন বর্ননা পাওয়া যায় নি।
মক্কা ছেড়ে যাওয়ার খেদ প্রকাশমূলক তার একটা
কবিতা প্রাচীন আরবী সাহিত্যে সংরক্ষিত আছে।
“তোমার শপথ আমি কাপুরূষতা বা নিহত হওয়ার ভয়ে
মুহাম্মদ এবং তাঁর সাথীদের থেকে পলায়ন
করেনি। কিন্তু আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করে
দেখলাম, তীর-তরবারি ব্যবহার করা যথেষ্ট মনে
করিনি। যতক্ষন আমার অবস্থান স্থল সংকীর্ণ
দেখিনি, ততক্ষন আমি মক্কায় অবস্থান করেছি।
অতঃপর ফিরে এসেছি, যেমন সিংহ ফিরে আসে
সিংহ শাবকের কাছে। ”
অনেকেই তার এই ফিরে আসাকে ইসলামের
দিকে ফিরে আসা বলেছেন, কিন্তু তা সঠিক নয়।
কারন তিনি কুফরীর উপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ
করেছেন।
উম্মে হানী বলেন মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কার উঁচু
ভূমিতে অবতরণ করলেন তখন আমার শ্বশুর বাড়ির
গোত্র বনূ মাখযূমের ২ ব্যক্তি আল-হারিছ ইবনে
হিশাম ও আব্দুল্লাহ ইবনে আবী রাবীআ পালিয়ে
আমার গৃহে আশ্রয় নেয়। এই সময় আমার ভাই
আলী এসে উপস্থিত হয় এবং তাদেরকে হত্যা
করতে উদ্যত হয়। উম্মে হানী তখন
আলীকে বলেন, ভাই আমি তাদেরকে আশ্রয়
দিয়েছি। তারপর আমি দরজা বন্ধ করে মক্কার উঁচু
ভূমিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
নিকট ছুটে গেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানিয়ে
বললেনঃ উম্মে হানী! কি উদ্দেশ্যে
এসেছো ? আমি তখন ঐ ২ ব্যক্তি ও আলীর
বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি
যাদেরকে আশ্রয় দিয়েছো আমিও তাদেরকে
আশ্রয় দিলাম। তুমি যাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছো
আমিও তাদেরকে আশ্রয় দিলাম। তুমি যাদেরকে
নিরাপত্তা দিয়েছো আমরাও তাদেরকে নিরাপত্তা
দিলাম। অতএব আলী তাদেরকে হত্যা করবে না।
ইয়াহিয়া ইবনুূু ইয়াহিয়া (রহঃ) আবূ মুররা (রহঃ) থেকে
বর্ণিত। তিনি উম্মে হানী (রাঃ)-কে বলতে
শুনেছেন যে, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম এবং
আমি তাঁকে গোসল করতে পেলাম। তাঁর কন্যা
ফাতিমা (রাঃ) একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে
রেখেছিলেন। আমি সালাম দিলাম! তিনি জিজ্ঞাসা
করলেন, এ কে? আমি জবাব দিলাম, উম্মে
হানীবিনত আবূ তালিব। তিনি বললেন, মারহাবা হে
উম্মেহানী! তারপর তিনি গোসল সেরে দাড়িয়ে
আট রাকআত সালাত আদায় করলেন। তখন তিনি একই
কাপড় জড়িয়ে ছিলেন। তিনি যখন সালাত শেষ
করলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার
সহোদর আলী ইবনুূু আবূ তালিব, হুরায়রার পূত্র
অমুককে কতল করার সংকল্প করেছে, যাকে
আমি নিরাপত্তা দিয়েছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মে হানী! তুমি যাকে
নিরাপত্তা দিয়েছ আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম।
উম্মেহানী (রাঃ) বললেন, এ ছিল চাশতের সময়।
[সহীহ মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন| অধ্যায়ঃ ৬/
মুসাফিরের সালাত ও কসর | হাদিস নাম্বার: 1542 ]
ইয়াহইয়া ইবনুূ আকছাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু
আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নারীরাও
সম্প্রদায়ের পক্ষে (অঙ্গীকার) গ্রহণ করতে
পারে অর্থাৎ মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা
ও আশ্রয় প্রদান করতে পারে। এই বিষয়ে উম্মি
হানী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত
আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি
হাসান-গরীব। আবূল ওয়ালীদ দিমাশকী রাদিয়াল্লাহু
আনহউম্মি হানী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, আমার শ্বশুর পক্ষীয় দুই ব্যক্তিকে
আমি নিরাপত্তা প্রদান করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাকে তুমি
নিরাপত্তা প্রদান করেছ আমরাও তাকে নিরাপত্তা দান
করলাম। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন | জামে
তিরমিজী,অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান | হাদিস নাম্বার: 1585 ]
হুবাইরার সাথে উম্মে হানীর সম্পর্ক ছেদ হয়ে
গেলেও, হুবাইরার প্রতি উম্মে হানির Devotion টা
লক্ষ্য করুন আপনারা। দেখুন, মক্কা বিজয়ের পর
আলি এসে দেখলেন উম্মে হানি হুবাইরার দুইজন
কাফের আত্মীয়কে আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি
তাদের হত্য করতে আসলে ভাইয়ের বিপক্ষে
দাড়ালো একটা মেয়ে তার স্বামীর দুইজন
আত্মীয়ের জন্য, যেই স্বামীর সাথে তার
সম্পর্ক ছেদ হয়ে গেছে!!!
এখানে কি আপনারা উম্মে হানি এবং নবীজীর
পরকীয়া প্রেমের কোন উপাখ্যান পাচ্ছেন?
নিশ্চয়ই এটাও একটা প্রেমের উপাখ্যানই বটে।
তবে তা উম্মে হানি এবং হুবাইরার প্রেমের
উপাখ্যান লিখলেই মনে হয় সবচেয়ে বেশি
যৌক্তিক হবে।
উম্মে হানীর স্বামী হুবায়রা কুফরীর উপর অটল
থাকেন এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। মক্কা
বিজয়ের পর উম্মে হানীর প্রকাশ্যে ইসলাম
গ্রহণের ঘোষণা করার কারনে উনাদের স্বামী
স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। অতঃপর
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে
বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন উনাদের উভয়ের
বয়সই ছিল ৬০ বছর। জবাবে উম্মে হানী বলেনঃ
আল্লাহ্র কসম! আমি তো জাহেলী যুগেই
আপনাকে ভালবাসতাম। এখন ইসলামী যুগে তো
সে ভালবাসা আরো গভীর হয়েছে। তবে আমি
এখন একজন বিপদ্গ্রস্থ নারী। আমার অনেকগুলি
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে রয়েছে। আমার
ভয় হয় তারা আপনাকে কষ্ট দিবে। রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেনঃ বাহনের
পিঠে আরোহণ কারিণীদের মধ্যে কুরাইশ
রমণীরাই সর্বোত্তম। তারা তাদের শিশুদের প্রতি
সর্বাধিক মমতাময়ী এবং স্বামীদের অধিকারের
ব্যাপারে অধিক যত্নশীলা।
মুহাম্মাদ ইবনুূু রাফি ও আবদ ইবনুূু হুমায়দ (রহঃ) আবূ
হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবের কন্যা
উম্মে হানীকে বিবাহের পয়গাম পাঠালেন। তখন
তিনি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি তো বার্ধক্যে
উপনীত হয়েছি এবং আমার সন্তান সন্ততি আছে।
এরপর রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেনঃ তুমি সর্বাপেক্ষা উত্তম রমনী। এরপর
মামার ইউনূস বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা
করেন। তরে তার বর্ণনায় এতে পার্থক্য যে,
তিনি বলেন, অর্থাৎ “তারা শৈশবে সন্তানের প্রতি
মেহেরবান ও যত্নশীল হয়ে থাকেন। [সহীহ
মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন |অধ্যায়ঃ ৪৫/ সাহাবী
(রাঃ) গণের ফযীলত | হাদিস নাম্বার: 6229 ]
সেই সময় রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ও উম্মে হানী উনাদের উভয়ের বয়সই ছিল ৬০
বছর। ৬০ বছর বয়সী, স্বামী পরিত্যক্তা আপন
চাচাত বোন কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া কি
অশ্লীলতা ? কিন্তু আপনারা অবাক হবেন মক্কা
বিজয়ের পর এই উম্মে হানীকে রাসুলাল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের প্রস্তাব
দিয়েছেন এটা কে কেন্দ্র করে মুক্তমনা
ব্লগে নাস্তিকরা অনেক অশ্লীল কথা বলেছে।
৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মহিলাও নাস্তিকদের কী
বোর্ড থেকে রক্ষা পায় নি।
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ছিল
উম্মে হানীর দারুন সম্মানবোধ ও ভালবাসা। মক্কা
বিজয়ের সময় কালে একদিন রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহে যান।
উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
কে শরবত পান করতে দিলে তিনি কিছু পান করে
উম্মে হানীর দিকে এগিয়ে দেন। উম্মে
হানী সেইদিন নফল রোযা রেখেছিল। তিনি
রোযা ভেঙ্গে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের পানকৃত অবশিষ্ট শরবত পান করেন।
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে
এইভাবে রোযা ভাঙ্গার কারন জানতে চাইলে
জবাবে উম্মে হানী বলেনঃ আমি আপনার মুখ
লাগানো শরবত পানের সুযোগ ছাড়তে পারি না।
[ মুসনাদে আহমদ]
এই শরবত পান করা নিয়েও নাস্তিকরা রাসুলাল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অশ্লীল কথা
বলতে ছাড়েন নাই। দীর্ঘ ১০ বছর পর রাসুলাল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ৬০ বছর বয়স্কা
আপন চাচাত বোন কে দেখতে গেছেন আর
এটাই এখন হয়ে গেছে নাস্তিকদের চোখে
অশ্লীলতা !
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময়
উনার আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ
রাখতেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার দুধ ভাই বোনদেরও খোঁজখবর
রাখতেন। খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর পর
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজা
রাযিয়াল্লাহু আনহার বান্ধবীদেরও খোঁজখবর
রাখতেন। খোদ আল কোরআনেই তো বলা
হয়েছে আত্মীয় স্বজনদের দেখভাল
করতে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের উম্মে হানীর এই খোঁজখবর
নেওয়াটা ছিল আল কোরআনের ই নির্দেশ।
হযরত উম্মে হানীর জন্য বিশেষ মর্যাদা এই যে,
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট খাবার
চেয়েছেন।
আবূ কুরায়ব (রহঃ) উম্মে হানী বিনত আবূ তালিব
রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমার
কাছে এলেন এবং বললেন, তোমাদের কাছে
কিছু আছে কি ? আমি বললাম, শুকনো রুটির
কয়েকটি টোকরা ও সিরকা ছাড়া আর কিছুই নেই।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা-ই
নিয়ে আস, যে বাড়িতে সিরকা আছে যে বাড়িতে
সালনের কোন অভাব আছে বলে বলা যায় না।
[ জামে তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন |অধ্যায়ঃ
২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত | হাদিস নাম্বার: 1848 ]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
চাশতের সালাত আদায় করার ঘটনাটাও উম্মে হানীর
তরফ থেকে বর্ণিত হয়েছে। হাফ্স ইবনুূু উমর
(রহঃ) ইবনুূু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, উম্মে
হানী (রাঃ) ব্যতিত অন্য কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত কে চাশতের সালাত
আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাদের জানা
নাই। তিনি (উম্মে হানী (রাঃ)) বলেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর
ঘরে গোসল করার পর আট রাকা’আত সালাত (নামায/
নামাজ) আদায় করেছেন। আমি তাঁকে এর চাইতে
সংক্ষিপ্ত কোন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে
দেখিনি, তবে তিনি রুকূ’ ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায়
করেছিলেন। [সহীহ বুখারি (ইফা), ইসলামিক
ফাউন্ডেশন |অধ্যায়ঃ ১৮/ সালাতে কসর করা | হাদিস
নাম্বার: 1040 ]
উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
কে যেমন দেখেছিলেন তার একটা সংক্ষিপ্ত
বর্ননা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে সুন্দর দাঁত
আমি আর কারো দেখিনি। মক্কা বিজয়ের দিন আমি
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার
কেশ ৪টি গুচ্ছে ভাগ করা দেখেছি। রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর
প্রথম খলীফা আবূ বকরের নিকট নবী দুহিতা
হযরত ফাতেমার পিতার উত্তরআধিকার দাবীর
বিষয়টিও উম্মে হানী বর্ননা করেছেন। উম্মে
হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৪৬
টি হাদীস বর্ণনা করেছেন যা বিভিন্ন হাদিসের
কিতাবে সংকলিত রয়েছে। হযরত উম্মে হানীর
সেই ঘরটি এখন মসজিদুল-হারামের ভিতরে
পড়েছে। স্থানটি সর্বশ্রেণীর বুযুর্গগণের
বিশেষ আকর্ষণের। সার্বক্ষনিক এবাদতকারীগন
অনেকেই এ স্থানে অবস্থান করেন। উম্মে
হানীর নামে পবিত্র মসজিদুল হারামে একটি দরজাও
রয়েছে।
তিনি হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পরেও
জীবিত ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবী বলেনঃ তিনি ৫০
হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তাহযীবুত তাহযীব
গ্রন্থের বর্ণনা মতে তিনি খলীফা মুয়াবিয়া
রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে ইন্তিকাল করেন।
উম্মে হানীর এক ছেলে জা’দা কে আলী
রাযিয়াল্লাহু আনহু খোরাসানের গভর্নর পদে
নিয়োগ করছিলেন। আশা করি এই আলোচনা করার
পর বিবেকবান নাস্তিকরা আর কখনই ৫০ বছর বয়স্কা
বিগতা যৌবণা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
আপন চাচাত বোন উম্মে হানীর প্রসঙ্গ
টেনে নিয়ে আসে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে আর
কোন আজে বাজে কথা বলবে না। তবে
নাস্তিকদের চোখে একজন ৫০ বছর বয়সী
মহিলাকে যদি হলিউঠের Keira Nightly এর মত
সুন্দর লাগে তাইলে আমার আর কিছু বলার নাই।
# তথ্যসূত্রঃ
১/আসহাবে রাসুলের জীবন কথা, আধুনিক
প্রকাশনী।
২/হাদীস চর্চায় মহিলা সাহাবীদের অবদান, ইসলামিক
ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

Logo Design by FlamingText.com
নাস্তিকদের অপবাদ

মেরাজের রজনীতে উম্মে হানীর ঘরে একাকী কি করছিলেন মোহাম্মদ(সাঃ)? ধরা খেয়ে মেরাজের গল্প ফেঁদেছেন!!

Posted by Adam Simon  |  No comments

উত্তর দিয়েছেন

ভাই শাফিউর রহমান ফারাবী

 

উম্মে হানীকে কেন্দ্র করে নাস্তিকদের সব অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব
=======================
লেখক:শাফিউর রহমান ফারাবী
================================================
আজ থেকে ৫ বছর আগে আমি যখন ব্লগজগতে প্রবেশ করি তখন থেকেই আমি দেখছি আবুল কাশেম টাইপ নামক কিছু মুক্তমনা ব্লগাররা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে উম্মে হানীর একটা অনৈতিক সম্পর্ক ছিল তা বলে বেড়াত।

কিন্তু কে এই উম্মে হানী, উনার পরিচয় কি বা এই উম্মে হানীর বয়স কত সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। শুধু আমি না অনেক মুসলমানই এই উম্মে হানী সম্পর্কে কিছুই জানে না। আর এই না জানার সুযোগটাই নিয়েছে নাস্তিকরা। আমরা এখন উম্মে হানীকে নিয়ে এইসব লোকদের নাস্তিকদের ব্যবচ্ছেদ করবো।

উম্মে হানী নামক এই মহিয়সী সাহাবিয়্যার নাম ছিল ফাখতা। হিন্দ নামেও উনাকে ডাকা হত। বিয়ের পর উনি উম্মে হানী নামে পরিচিত হন। উম্মে হানী ছিল উনার কুনিয়াত। উম্মে হানী ছিলেন রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচা আবু তালেবের জ্যৈষ্ঠ কন্যা ও হযরত আলীর বড় বোন। অর্থ্যাৎ উম্মে হানী ছিলেন রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচাত বোন।

তিনি রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম বয়স্কা ছিলেন। তবে অনেক রেওয়াতে পাওয়া যায় উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন তবে অধিকাংশ সীরাতবিদ উম্মে হানী কে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমবয়সী বলেছেন।

তাহলে অধিকাংশ সীরাতবিদের কথামত মেরাজের ঘটনার সময় উম্মে হানী ও রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের উভয়ের বয়সই ছিল ৫০ এর উপরে।
যুবক বয়সেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু তালেবের কাছে উম্মে হানীকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু আবু তালেব রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তার মেয়ের বিয়ে না দেয়ার কারণ ছিল তিনি আগেই হুবাইরা বিন আয়েয আল মাখযুমীকে বিয়ের ব্যাপারে কথা দিয়ে দিয়েছিলেন। পরে হুবায়রার
সাথেই উম্মে হানীর বিয়ে হয়েছিল। আমরা জানি আরবগণ কারও সাথে কথা দিলে যে কোন মূল্যে তা পালন করত। এটা আরবদের একটি উল্লেখ যোগ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তাই খুব স্বভাবতই আবু তালেব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন নি।

কিন্ত তাই বলে কি আত্মীয়তার সম্পর্ক সেখানেই শেষ হয়ে গেল? না হল না। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণেই আপন চাচাত বোন হিসাবে উম্মে হানীর সাথে দেখা স্বাক্ষাৎ বা
যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

আবু তালেবের গৃহে একই সঙ্গে লালিত পালিত হওয়ায় উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সহোদরের ন্যায় স্নেহ করতেন। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল আপন ভাই বোনের মত। উম্মে হানীর স্বামীর নাম ছিল হুবায়রা। উম্মে হানীর চার সন্তান ছিল। তাদের নাম হল: আমর, জাদাহ, হানী এবং ইউসুফ। অর্থ্যাৎ উনার প্রথম সন্তান হানীর নামে উনাকে উম্মে হানী বলে ডাকা হত। খাদিজা রাযিয়াল্লাহ আনহা ও আবু তালেবের মৃত্যুর পর রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব অসহায় হয়ে পরেছিলেন।

সেই সময় সালাত আদায় করতে গেলে কাফেররা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার উপর উটের নাড়ি ভূড়ি ফেলে দিত। মক্কী জীবনে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রভাবশালী সাহাবীদের গৃহে অবস্থান করে অন্যান্য সাহাবীদের কে দ্বীন শিক্ষা দিতেন। যেমন সাহাবী আরকাম ইবনে আবুল আরকামের ঘর সাফা পাহাড়ের উপর অবস্থিত ছিল। তাই নব্যুয়তের ৫ম বছর থেকে দারে আরকাম কে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের দাওয়াত এবং মুসলমানদের সাথে মেলামেশার কেন্দ্ররুপে নির্ধারন করেন।

যেহেতু উম্মে হানী এবং উনার ২ ভাই হযরত আলী ও জাফর উনারা উভয়েই মুসলমান ছিলেন ও উম্মে হানীর স্বামী হুবায়রা মুসলমান না হলেও রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন তাই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঝে মাঝে উম্মে হানীর গৃহে সালাত আদায় করতেন এবং অন্যান্য সাহাবীদের
কে দ্বীন ইসলাম শিক্ষা দিতেন। উম্মে হানীর ঘর কাবা শরীফের খুব সন্নিকটেই ছিল।

উম্মে হানী বিনতে আবু তালেব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- “ আমি রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের কিরাত আমার চাদোয়া বা তাবুর নিচ থেকে শুনতাম। “ অর্থ্যাৎ রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কাবা শরিফে রাতে সালাত আদায় করতেন তখন তা উম্মে হানী উনার ঘর থেকেই শুনতে পেতেন। আর উম্মে হানীর পিতা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচা আবু তালেব তো সব সময়ই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভাকাঙ্গী ছিলেন। আর হাশেমী গোত্র সব সময়ই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে ছিল। আর উম্মে হানীর স্বামী হুবায়রা কখনই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কোন বিরুপ মন মানসিকতা পোষন করতেন না।

তাই আমরা বুঝতে পারছি যে উম্মে হানীর পরিবার পরিজনের বেশীর ভাগ সদস্য ও উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচাত বোন হবার কারনে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহকে নিরাপদভাবতেন। ব্যাস এতটুকুই।  কিন্তু নাস্তিকরা কি চমৎকার ভাবেই না এই উম্মে হানীকে কেন্দ্র করে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আজেবাজে কথা বলা যাচ্ছ। কিন্তু গাধার দল এটা জানে না এই মেরাজের ঘটনার সময় এই উম্মে হানীর বয়স ছিল ৫০ বছর। ৫০ বছর বয়সী মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন চাচাত বোন উম্মে হানী এখন নাস্তিকদের চোখে বিশ্ব সুন্দরী। সীরাত সাহিত্যে পাওয়া যায় মেরাজের রাত্রিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহে ছিলেন।


কিন্তু সহীহ হাদিসগুলিতে এই সম্পর্কে কিছু পাওয়া
যায় না।
# মিরাজের_রাতে_রাসূল_সাল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়া___
সাল্লাম_কোথায়_অবস্থান_করছিলেন ?
সহীহ বুখারীর বণর্নায় মেরাজের রাতে রাসূল
সাল্লালাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম হাতীমে কাবায়
অবস্থান করছিলেন।
)) ﺃَﻥَّ ﻧَﺒِﻰَّ ﺍﻟﻠَّﻪِ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﺣَﺪَّﺛَﻬُﻢْ ﻋَﻦْ
ﻟَﻴْﻠَﺔَ ﺃُﺳْﺮِﻯَ ﺑِﻪِ ‏« ﺑَﻴْﻨَﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺤَﻄِﻴﻢِ – ﻭَﺭُﺑَّﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ
ﻓِﻰ ﺍﻟْﺤِﺠْﺮِ – ﻣُﻀْﻄَﺠِﻌًﺎ ، ﺇِﺫْ ﺃَﺗَﺎﻧِﻰ ﺁﺕٍ ((
“আল্লাহর নবী (সাল্লালাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম)
ইসরার রাতের ঘটনা প্রসেঙ্গে বলেন: আমি
তখন হাতীমে কাবা অথবা বলেছেন, হিজরে চিৎ
হয়ে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ একজন আগন্তুক
আসল…)”। (সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ মিরাজ)
আর সুনান তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে:
ﺑﻴﻨﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻨﺎﺋﻢ ﻭﺍﻟﻴﻘﻈﺎﻥ
“আমি তখন (ইসরার সময়) বাইতুল্লাহ তথা কাবা
শরীফের নিকট ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থার মাঝে
অবস্থান করছিলাম…।” (হাদীস নং ৩৬৬৯)
মিরাজের রাত্রিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের উম্মে হানীর ঘরে থাকার কথা কোন
গ্রহণযোগ্য হাদীস গ্রন্থে পাওয়া যায় না তবে
সীরাত গ্রন্থ গুলিতে এই বিষয় নিয়ে লেখা
আছে।
সীরাতে ইবনে হিশাম আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ
এই গ্রন্থগুলিতে উম্মে হানীর বক্তব্য পড়লে
বুঝা যায় রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
মেরাজের রাত্রিতে উম্মে হানীর গৃহে
অবস্থান করলেও রাতের বেলায় কাবা শরীফে
চলে গিয়েছিলেন। তারপর কাবা শরীফ থেকেই
হযরত জিবরাঈল উনাকে নিয়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে
যায়। যেহেতু সহীহ হাদীস সমূহতে বলা আছে
যে কাবা শরীফ থেকেই রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেরাজ শুরু হয়েছিল তাই
মেরাজের রাত্রিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম যে কাবা শরীফেই ছিলেন তাতে
কোন সন্দেহ নাই।
উম্মে হানী বলেনঃ রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের মেরাজ আমার ঘর থেকেই হয়।
সে রাতে তিনি এশার নামায আদায় করে আমার ঘরে
ঘুমান। আমরাও ঘুমিয়ে পড়ি। ফজরের অব্যবহিতের
পূর্বে তিনি আমাদের কে ঘুম থেকে জাগান।
তারপর তিনি ফজরের নামায পড়েন এবং আমরাও তাঁর
সাথে নামায পড়ি। তারপর তিনি বলেনঃ উম্মে হানী!
তুমি দেখেছিলে, গতরাতে আমি এই উপত্যকায়
এশার নামায আদায় করেছিলাম। তারপর আমি বায়তুল
মোকাদ্দাসে যাই এবং সেখানে নামায আদায় করি।
আর এখন আমি ফজরের নামায তোমাদের সাথে
আদায় করলাম, যা তোমরা দেখতে পেলে। তাই
উম্মে হানীর বক্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে কাবা
শরীফে যাওয়ার আগের সময়টা রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহেই
অবস্থান করেছিলেন।
সীরাত গ্রন্থ গুলিতে মেরাজ রাত্রির ব্যাপারে
উম্মে হানীর যে বক্তব্য আছে তা আমরা এখন
একটু দেখি- “উম্মে হানী বলেন: “তিনি রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে রাতে (ইসরার
রাতে) ‘আমাদের’ নিকট ঘুমান। তিনি এশার নামায আদায়
করে ঘুমালেন। ‘আমরা’ও ঘুমালাম। অত:পর ফজর
হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি ‘আমাদের’কে ঘুম
থেকে জাগালেন অত:পর ইসরা ও মিরাজের ঘটনা
‘আমাদের’ নিকট বর্ণনা করলেন।” এখানেও
বহুবচন। এখানে আমরা দেখি উম্মে হানী
আমাদের শব্দটি ব্যবহার করেছেন। “ অত:পর
ফজর হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তিনি ‘আমাদের’কে
ঘুম থেকে জাগালেন অত:পর ইসরা ও মিরাজের
ঘটনা ‘আমাদের’ নিকট বর্ণনা করলেন।” এখন
উম্মে হানী যদি ঘরে একাই থাকতেন তাইলে
তিনি কি আমাদের এই শব্দটি ব্যবহার করতেন ? তখন
তিনি শুধু আমাকে এই শব্দটি ব্যবহার করতেন
অর্থ্যাৎ উম্মে হানী তখন বলত“তিনি ফজরের
কিছুক্ষণ আগে ‘আমাকে’ ঘুম থেকে জাগালেন।
স্পষ্টত বুঝা যাচ্ছে, উম্মে হানী একাকি
বাড়ীতে ছিলেন না। তার সাথে আরও মানুষ জন
ছিল। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি তার স্বামী ও চার
সন্তান ছিল। সুতরাং এটা তো খুব স্বাভাবিক যে তার
বাড়ীতে তার স্বামী, সন্তান ও উনার দাসী
থাকবে। আর আমি আগেই তো বলছি উম্মে
হানীর আপন ২ ভাই হযরত আলী ও জাফর তারা
মুসলমান ছিলেন এবং উনারা উম্মে হানীর গৃহে
দ্বীন শিক্ষা করতেন।
যুক্তির খাতিরে যদি ধরেও নেই ঐ রাত্রিতে
উম্মে হানীর স্বামী বাড়িতে ছিল না তাও কিন্তু
উম্মে হানীর সন্তান, উনার আপন ২ ভাই ও উনার
দাসদাসী বাড়িতে ছিল।
মেরাজের রাত্রিতে উম্মে হানীর বাড়িতে
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
যাওয়াটাকে একটু সহজভাবে আপনাদের কে বুঝাই।
ধরেন কোন কারনে আপনি যদি আপনার আপন
চাচাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান এবং
সেইখানে রাত্রিযাপন করেন, আপনার চাচাত
বোনের বাসায় তার স্বামী, সন্তান ও বাসার
কাজের লোকও ছিল তাইলে কারো সামনে
সেই প্রসঙ্গ তোলার সময় কেউ কি এই কথা
ভাববে যে আপনি আপনার চাচাতো বোনের
সাথে রাত কাটিয়েছেন ?
অথবা, অন্য কেউ যদি তার চাচাতো বোনের
বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং রাত্রিযাপন করে,
তাইলে আপনি কি ধরে নেন যে সে আসলে
তার চাচাতো বোনের সাথে রাত কাটিয়েছে?
আর যদি আমরা ধরে নেই আপনার বয়স ৫০ বছর ও
আপনার আপন চাচত বোনের বয়সও ৫০ বছর আর
কোন কারনে আপনি আপনার ৫০ বছর বয়স্ক চাচাত
বোনের বাড়িতে এক রাত ছিলেন তাইলে এই
কথার প্রসঙ্গ ধরে কেউ যদি বলে আপনি
আপনার ৫০ বছর বয়স্ক আপন চাচাত বোনের
সাথে রাত কাটিয়েছেন তাইলে তাকে এক কথায়
আমরা পাগল ছাড়া আর কি বলতে পারি। ঠিক এই
পাগলামিটাই দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ব্লগ জগতে
চলছে যে মিরাজের রাত্রিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহে ছিলেন
তাই উম্মে হানীর সাথে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৈহিক মিলন হয়েছিল।
নাউযুবিল্লাহ।
কিন্তু গাধার দল এটা জানে না যে উম্মে হানী ছিল
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আপন
চাচাত বোন এবং মেরাজের ঘটনার সময় উম্মে
হানী ও রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাদের উভয়ের বয়সই ছিল ৫০ এর উপরে। এবং
মিরাজ রাত্রিতে উম্মে হানীর ঘরে উনার সন্তান,
উনার আপন ২ ভাই হযরত আলী ও জাফর এবং উনার
দাসী ছিল।
নাস্তিকরা Lings, Martin এর লেখা “Muhammad
his life based on the earliest sources” এই বই
থেকে উম্মে হানীর প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে
আসে। Lings, Martin এর বইটা বিভিন্ন প্রাচীন
সীরাত গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে লেখা
হয়েছে।
Lings, Martin এর লেখা বইতে উম্মে হানীর
সম্পর্কে কি বলা আছে তা আমরা এখন একটু
দেখি “ if it was the time for a prayer during
one of these visits, the # Muslims of the
household would pray together. রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো
ভিজিটের সময় নামাজের সময় হলে ঘরের
মুসলিমগন (ঘরের মুসলিম শুধু উম্মে হানি হলে
মুসলিমগন বলা হতো না) একসাথে নামাজ পড়তেন।
এমনকী উম্মে হানি এবং উনার মেয়ে হানী –
ঘরের যদি শুধু এই দুজনও মুসলিম হতেন তাহলেও
এভাবে বলাটাই স্বাভাবিক হতো যে হানী এবং
উম্মে হানি মুহম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর
পেছনে নামাজ পড়তেন। সুতরাং ধারণা করাই যায়,
হানী এবং উম্মে হানি ছাড়াও আরো কেউ কেউ
(তার ভাইরা) রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের এর পিছে তখন নামায পড়ত। সুতরাং
বাড়িতে উম্মে হানীর স্বামী হুবাইরা না থাকলেও
উম্মে হানি একা থাকতেন না, এটুকু নিশ্চিত হওয়া
গেল।
on one occasion, when # they had all prayed
the night prayer behind the Prophet, Umm
Hani’ invited him to spend the night with
them.
He accepted her invitation; but after a brief
sleep he rose and went to the Mosque, for he
loved to visit the Ka’bah during the night
hours. While he was there, the desire to sleep
came over him again, and he lay down in the
Hijr.
“Whilst I was sleeping in the Hijr,” he said,
“Gabriel came to me…
একবার উনারা সবাই নবীর পিছনে নামাজ পড়লেন।
এর পর উম্মে হানী নবীকে আমন্ত্রণ
জানালেন তাঁদের সাথে রাত্রি যাপনের। মুহাম্মদ
সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। কিন্তু অল্প
কিছুক্ষণ ঘুমের পরই উঠলেন এবং মসজিদে চলে
গেলেন। কেননা কাবায় রাত্রি কাটাতে নবী
অতিশয় পছন্দ করতেন।
একবার যখন তারা সবাই প্রফেটের পেছনে নামাজ
পড়ে নিলেন,…
এখানে যে অকেশনের কথা বলা হচ্ছে,
বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে, ইসরা এবং
মিরাজের দিনের কথাই বলা হচ্ছে। সেদিন যখন
তারা সবাই প্রফেটের পেছে নামাজ পড়া শেষ
করলেন, তখনকার কথা হচ্ছে।
প্রফেট ছাড়াই বাকিদের কথা বলতে বলা হচ্ছে
সবাই। অর্থাৎ, বাকি সবাই নিশ্চয়ই উম্মে হানি একা নন
আমি বলতে চাচ্ছি, উম্মে হানি একা হলে নিশ্চয়ই
বাকি সবাই বলা হতো না। এমনকী, যদি উম্মে হানি
এবং উনার মেয়ে হানী –এই দুজনও থাকতেন তবু
মুহম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদে বাকিদের
জন্য সবাই বলার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না।
উম্মে হানি এবং হানী বলাটাই স্বাভাবিক হতো। সুতরাং
বাড়িতে যদি উম্মে হানীর স্বামী হুবাইরা না-ও
থাকতেন, তবু উম্মে হানি একা ছিলেন না। এতটুকু
নিশ্চিত হওয়া গেল।
মিরাজ রাত্রির ঘটনাটা ইবনে ইসহাক -এর উদ্ধৃত অংশটা
আমরা দেখি:
He prayed the final night prayer, then he slept
and we slept. A little before dawn the apostle
woke us, and when we had prayed the dawn
prayer he said, “O Umm Hani’, I prayed with
you…
# ক. then he slept and we slept…(তিনি ঘুমালেন,
এবং আমরা ঘুমালাম)
# খ . A little before dawn the apostle woke us…
(জাগালেন আমাদের…, এইখানে আমাদের মানে
কী, সেটা বোঝার জন্য নিশ্চয়ই খুব সূক্ষ্ম বুদ্ধি
দরকার নাই। যদি শুধু উম্মে হানি-ই থাকতেন, তাহলে
ডাকার সময় ” the apostle woke us” বলা হবে
কেন? বলা হতো ” the apostle woke me”.
তারপর বলেন, ডাকার পর নামাজ পড়লেন, মানে
কী? যাদেরকে ডাকলেন, তাদের সবাইকে
নামাজ পড়ার জন্যই ডাকলেন, তাই না? যাদেরকে
ডাকলেন, তারা যদি নামাজ না-ই পড়বে, তাহলে
তাদেরকে ডাকবেন কেন?
তার মানেই তো নামাজে উম্মে হানি ছাড়াও
আরো কেউ কেউ ছিলো।
আর উম্মে হানীর গৃহে যে দাসীও থাকত এই
কথাও কিন্তু উম্মে হানী নিজেই বলেছেন।
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন
মিরাজের ঘটনা কাফেরদের কে বলতে চাইলেন
তখন আমি বললাম: “হে আল্লাহর নবী, আপনি এই
সংবাদ কাউকে জানাবেন না। কারণ এই সংবাদ জানলে
তারা আপনাকে মিথ্যুক বলবে এবং অপমান করবে।“
তিনি বললেন: “আল্লাহর কসম, আমি তাদেরকে
জানাবই।“ আমি আমার ক্রীতদাসীকে নির্দেশ
দিলাম: “তুমি নবীকে অনুসরণ কর আর শ্রবণ কর
উনি কি বলেন, আর তারা কি বলে।“ (ইবনে ইসহাক,
পৃঃ ১৮৪)
তাইলে আমরা সীরাত গ্রন্থগুলি থেকে ও
নাস্তিকদের প্রিয় বই Lings, Martin এর লেখা
“Muhammad his life based on the earliest
sources,” এর রেফারেন্স গুলি থেকে যা বুঝলাম
তা হল মেরাজের রাত্রিতে উম্মে হানী একাকী
বাড়িতে ছিলেন না। মেরাজের রাত্রিতে উম্মে
হানীর স্বামী যদি নাও থাকে তাও উম্মে হানীর
গৃহে উনার সন্তান, উনার ২ আপন ভাই হযরত আলী
ও জাফর এবং উনার দাসী ছিল।
আমি নাস্তিকদের কে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি
{{He used to sleep in her house, when no one
was around.}} উম্মে হানীর সাথে রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই জাতীয়
কোন সম্পর্ক আমাকে কোন নির্ভরযোগ্য
সীরাত গ্রন্থ থেকে বের করে নিয়ে এসে
দেখাক।
উম্মে হানী বলেনঃ রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের মেরাজ আমার ঘর থেকেই হয়।
সে রাতে তিনি এশার নামায আদায় করে আমার ঘরে
ঘুমান। আমরাও ঘুমিয়ে পড়ি। ফজরের অব্যবহিতের
পূর্বে তিনি আমাদের কে ঘুম থেকে জাগান।
তারপর তিনি ফজরের নামায পড়েন এবং আমরাও তাঁর
সাথে নামায পড়ি।
তারপর তিনি বলেনঃ উম্মে হানী! তুমি
দেখেছিলে, গত রাতে আমি এই উপত্যকায় ঈশার
নামায আদায় করেছিলাম। তারপর আমি বায়তুল
মোকাদ্দাসে যাই এবং সেখানে নামায আদায় করি।
আর এখন আমি ফজরের নামায তোমাদের সাথে
আদায় করলাম, যা তোমরা দেখতে পেলে।
তারপর তিনি বাইরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। আমি
তাঁর চাদরের এক কোণা টেনে ধরলাম। ফলে
তাঁর পেটের একাংশ বেরিয়ে যায়। তখন তা
মিসরীয় কিবতী ভাঁজ করা কাতান বস্ত্রের মত
দেখাচ্ছিল। আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! একথা
আর কাউকে বলবেন না। এমন কথা তারা বিশ্বাস
করবে না এবং তারা আপনাকে কষ্ট দিবে।
তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! একথা আমি
তাদেরকে বলবই। নাস্তিকরা উম্মে হানীর
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই কাপড়
ধরে টেনে ধরা এই প্রসঙ্গ টা টেনে নিয়ে
এসে অনেক অশ্লীল কথা বলে।
কিন্তু আপনারা এখানে খেয়াল করুন, এই ঘটনাটা
ঘটেছে নামাজ পড়ার পর। এবং বাড়িতে যেহেতু
উম্মে হানি এবং ফাতিমা ছাড়াও আরো অনেকেই
ছিলেন সেহেতু এই টানাটানিটা অনেকের সামনেই
হয়েছিলো।
উম্মে হানীর স্বামী আবু হুবায়রা মক্কা বিজয়ের
সময় মুশরিক অবস্থায় নাজরানের দিকে পালিয়ে যায়।
নাজরান থেকে প্রত্যাবর্তন ও তার ইসলাম গ্রহণ
সম্বন্ধে কোন বর্ননা পাওয়া যায় নি।
মক্কা ছেড়ে যাওয়ার খেদ প্রকাশমূলক তার একটা
কবিতা প্রাচীন আরবী সাহিত্যে সংরক্ষিত আছে।
“তোমার শপথ আমি কাপুরূষতা বা নিহত হওয়ার ভয়ে
মুহাম্মদ এবং তাঁর সাথীদের থেকে পলায়ন
করেনি। কিন্তু আমি বিষয়টা নিয়ে চিন্তা করে
দেখলাম, তীর-তরবারি ব্যবহার করা যথেষ্ট মনে
করিনি। যতক্ষন আমার অবস্থান স্থল সংকীর্ণ
দেখিনি, ততক্ষন আমি মক্কায় অবস্থান করেছি।
অতঃপর ফিরে এসেছি, যেমন সিংহ ফিরে আসে
সিংহ শাবকের কাছে। ”
অনেকেই তার এই ফিরে আসাকে ইসলামের
দিকে ফিরে আসা বলেছেন, কিন্তু তা সঠিক নয়।
কারন তিনি কুফরীর উপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ
করেছেন।
উম্মে হানী বলেন মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কার উঁচু
ভূমিতে অবতরণ করলেন তখন আমার শ্বশুর বাড়ির
গোত্র বনূ মাখযূমের ২ ব্যক্তি আল-হারিছ ইবনে
হিশাম ও আব্দুল্লাহ ইবনে আবী রাবীআ পালিয়ে
আমার গৃহে আশ্রয় নেয়। এই সময় আমার ভাই
আলী এসে উপস্থিত হয় এবং তাদেরকে হত্যা
করতে উদ্যত হয়। উম্মে হানী তখন
আলীকে বলেন, ভাই আমি তাদেরকে আশ্রয়
দিয়েছি। তারপর আমি দরজা বন্ধ করে মক্কার উঁচু
ভূমিতে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
নিকট ছুটে গেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানিয়ে
বললেনঃ উম্মে হানী! কি উদ্দেশ্যে
এসেছো ? আমি তখন ঐ ২ ব্যক্তি ও আলীর
বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি বললেনঃ তুমি
যাদেরকে আশ্রয় দিয়েছো আমিও তাদেরকে
আশ্রয় দিলাম। তুমি যাদেরকে নিরাপত্তা দিয়েছো
আমিও তাদেরকে আশ্রয় দিলাম। তুমি যাদেরকে
নিরাপত্তা দিয়েছো আমরাও তাদেরকে নিরাপত্তা
দিলাম। অতএব আলী তাদেরকে হত্যা করবে না।
ইয়াহিয়া ইবনুূু ইয়াহিয়া (রহঃ) আবূ মুররা (রহঃ) থেকে
বর্ণিত। তিনি উম্মে হানী (রাঃ)-কে বলতে
শুনেছেন যে, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট গেলাম এবং
আমি তাঁকে গোসল করতে পেলাম। তাঁর কন্যা
ফাতিমা (রাঃ) একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে
রেখেছিলেন। আমি সালাম দিলাম! তিনি জিজ্ঞাসা
করলেন, এ কে? আমি জবাব দিলাম, উম্মে
হানীবিনত আবূ তালিব। তিনি বললেন, মারহাবা হে
উম্মেহানী! তারপর তিনি গোসল সেরে দাড়িয়ে
আট রাকআত সালাত আদায় করলেন। তখন তিনি একই
কাপড় জড়িয়ে ছিলেন। তিনি যখন সালাত শেষ
করলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমার
সহোদর আলী ইবনুূু আবূ তালিব, হুরায়রার পূত্র
অমুককে কতল করার সংকল্প করেছে, যাকে
আমি নিরাপত্তা দিয়েছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বললেন, হে উম্মে হানী! তুমি যাকে
নিরাপত্তা দিয়েছ আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম।
উম্মেহানী (রাঃ) বললেন, এ ছিল চাশতের সময়।
[সহীহ মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন| অধ্যায়ঃ ৬/
মুসাফিরের সালাত ও কসর | হাদিস নাম্বার: 1542 ]
ইয়াহইয়া ইবনুূ আকছাম (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু
আনহ সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নারীরাও
সম্প্রদায়ের পক্ষে (অঙ্গীকার) গ্রহণ করতে
পারে অর্থাৎ মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা
ও আশ্রয় প্রদান করতে পারে। এই বিষয়ে উম্মি
হানী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে হাদীস বর্ণিত
আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি
হাসান-গরীব। আবূল ওয়ালীদ দিমাশকী রাদিয়াল্লাহু
আনহউম্মি হানী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন, আমার শ্বশুর পক্ষীয় দুই ব্যক্তিকে
আমি নিরাপত্তা প্রদান করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাকে তুমি
নিরাপত্তা প্রদান করেছ আমরাও তাকে নিরাপত্তা দান
করলাম। [ ইসলামিক ফাউন্ডেশন | জামে
তিরমিজী,অধ্যায়ঃ ২৪/ অভিযান | হাদিস নাম্বার: 1585 ]
হুবাইরার সাথে উম্মে হানীর সম্পর্ক ছেদ হয়ে
গেলেও, হুবাইরার প্রতি উম্মে হানির Devotion টা
লক্ষ্য করুন আপনারা। দেখুন, মক্কা বিজয়ের পর
আলি এসে দেখলেন উম্মে হানি হুবাইরার দুইজন
কাফের আত্মীয়কে আশ্রয় দিয়েছেন। তিনি
তাদের হত্য করতে আসলে ভাইয়ের বিপক্ষে
দাড়ালো একটা মেয়ে তার স্বামীর দুইজন
আত্মীয়ের জন্য, যেই স্বামীর সাথে তার
সম্পর্ক ছেদ হয়ে গেছে!!!
এখানে কি আপনারা উম্মে হানি এবং নবীজীর
পরকীয়া প্রেমের কোন উপাখ্যান পাচ্ছেন?
নিশ্চয়ই এটাও একটা প্রেমের উপাখ্যানই বটে।
তবে তা উম্মে হানি এবং হুবাইরার প্রেমের
উপাখ্যান লিখলেই মনে হয় সবচেয়ে বেশি
যৌক্তিক হবে।
উম্মে হানীর স্বামী হুবায়রা কুফরীর উপর অটল
থাকেন এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। মক্কা
বিজয়ের পর উম্মে হানীর প্রকাশ্যে ইসলাম
গ্রহণের ঘোষণা করার কারনে উনাদের স্বামী
স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। অতঃপর
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে
বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন উনাদের উভয়ের
বয়সই ছিল ৬০ বছর। জবাবে উম্মে হানী বলেনঃ
আল্লাহ্র কসম! আমি তো জাহেলী যুগেই
আপনাকে ভালবাসতাম। এখন ইসলামী যুগে তো
সে ভালবাসা আরো গভীর হয়েছে। তবে আমি
এখন একজন বিপদ্গ্রস্থ নারী। আমার অনেকগুলি
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে রয়েছে। আমার
ভয় হয় তারা আপনাকে কষ্ট দিবে। রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেনঃ বাহনের
পিঠে আরোহণ কারিণীদের মধ্যে কুরাইশ
রমণীরাই সর্বোত্তম। তারা তাদের শিশুদের প্রতি
সর্বাধিক মমতাময়ী এবং স্বামীদের অধিকারের
ব্যাপারে অধিক যত্নশীলা।
মুহাম্মাদ ইবনুূু রাফি ও আবদ ইবনুূু হুমায়দ (রহঃ) আবূ
হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ তালিবের কন্যা
উম্মে হানীকে বিবাহের পয়গাম পাঠালেন। তখন
তিনি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি তো বার্ধক্যে
উপনীত হয়েছি এবং আমার সন্তান সন্ততি আছে।
এরপর রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
বললেনঃ তুমি সর্বাপেক্ষা উত্তম রমনী। এরপর
মামার ইউনূস বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা
করেন। তরে তার বর্ণনায় এতে পার্থক্য যে,
তিনি বলেন, অর্থাৎ “তারা শৈশবে সন্তানের প্রতি
মেহেরবান ও যত্নশীল হয়ে থাকেন। [সহীহ
মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন |অধ্যায়ঃ ৪৫/ সাহাবী
(রাঃ) গণের ফযীলত | হাদিস নাম্বার: 6229 ]
সেই সময় রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ও উম্মে হানী উনাদের উভয়ের বয়সই ছিল ৬০
বছর। ৬০ বছর বয়সী, স্বামী পরিত্যক্তা আপন
চাচাত বোন কে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া কি
অশ্লীলতা ? কিন্তু আপনারা অবাক হবেন মক্কা
বিজয়ের পর এই উম্মে হানীকে রাসুলাল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ের প্রস্তাব
দিয়েছেন এটা কে কেন্দ্র করে মুক্তমনা
ব্লগে নাস্তিকরা অনেক অশ্লীল কথা বলেছে।
৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মহিলাও নাস্তিকদের কী
বোর্ড থেকে রক্ষা পায় নি।
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ছিল
উম্মে হানীর দারুন সম্মানবোধ ও ভালবাসা। মক্কা
বিজয়ের সময় কালে একদিন রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানীর গৃহে যান।
উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
কে শরবত পান করতে দিলে তিনি কিছু পান করে
উম্মে হানীর দিকে এগিয়ে দেন। উম্মে
হানী সেইদিন নফল রোযা রেখেছিল। তিনি
রোযা ভেঙ্গে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের পানকৃত অবশিষ্ট শরবত পান করেন।
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে
এইভাবে রোযা ভাঙ্গার কারন জানতে চাইলে
জবাবে উম্মে হানী বলেনঃ আমি আপনার মুখ
লাগানো শরবত পানের সুযোগ ছাড়তে পারি না।
[ মুসনাদে আহমদ]
এই শরবত পান করা নিয়েও নাস্তিকরা রাসুলাল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অশ্লীল কথা
বলতে ছাড়েন নাই। দীর্ঘ ১০ বছর পর রাসুলাল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ৬০ বছর বয়স্কা
আপন চাচাত বোন কে দেখতে গেছেন আর
এটাই এখন হয়ে গেছে নাস্তিকদের চোখে
অশ্লীলতা !
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময়
উনার আত্মীয় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ
রাখতেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার দুধ ভাই বোনদেরও খোঁজখবর
রাখতেন। খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর পর
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজা
রাযিয়াল্লাহু আনহার বান্ধবীদেরও খোঁজখবর
রাখতেন। খোদ আল কোরআনেই তো বলা
হয়েছে আত্মীয় স্বজনদের দেখভাল
করতে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের উম্মে হানীর এই খোঁজখবর
নেওয়াটা ছিল আল কোরআনের ই নির্দেশ।
হযরত উম্মে হানীর জন্য বিশেষ মর্যাদা এই যে,
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নিকট খাবার
চেয়েছেন।
আবূ কুরায়ব (রহঃ) উম্মে হানী বিনত আবূ তালিব
রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমার
কাছে এলেন এবং বললেন, তোমাদের কাছে
কিছু আছে কি ? আমি বললাম, শুকনো রুটির
কয়েকটি টোকরা ও সিরকা ছাড়া আর কিছুই নেই।
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা-ই
নিয়ে আস, যে বাড়িতে সিরকা আছে যে বাড়িতে
সালনের কোন অভাব আছে বলে বলা যায় না।
[ জামে তিরমিজী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন |অধ্যায়ঃ
২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত | হাদিস নাম্বার: 1848 ]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
চাশতের সালাত আদায় করার ঘটনাটাও উম্মে হানীর
তরফ থেকে বর্ণিত হয়েছে। হাফ্স ইবনুূু উমর
(রহঃ) ইবনুূু আবূ লায়লা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, উম্মে
হানী (রাঃ) ব্যতিত অন্য কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সালাত কে চাশতের সালাত
আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাদের জানা
নাই। তিনি (উম্মে হানী (রাঃ)) বলেন, রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর
ঘরে গোসল করার পর আট রাকা’আত সালাত (নামায/
নামাজ) আদায় করেছেন। আমি তাঁকে এর চাইতে
সংক্ষিপ্ত কোন সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে
দেখিনি, তবে তিনি রুকূ’ ও সিজদা পূর্ণভাবে আদায়
করেছিলেন। [সহীহ বুখারি (ইফা), ইসলামিক
ফাউন্ডেশন |অধ্যায়ঃ ১৮/ সালাতে কসর করা | হাদিস
নাম্বার: 1040 ]
উম্মে হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
কে যেমন দেখেছিলেন তার একটা সংক্ষিপ্ত
বর্ননা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে সুন্দর দাঁত
আমি আর কারো দেখিনি। মক্কা বিজয়ের দিন আমি
রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাথার
কেশ ৪টি গুচ্ছে ভাগ করা দেখেছি। রাসূলাল্লাহ
সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের পর
প্রথম খলীফা আবূ বকরের নিকট নবী দুহিতা
হযরত ফাতেমার পিতার উত্তরআধিকার দাবীর
বিষয়টিও উম্মে হানী বর্ননা করেছেন। উম্মে
হানী রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ৪৬
টি হাদীস বর্ণনা করেছেন যা বিভিন্ন হাদিসের
কিতাবে সংকলিত রয়েছে। হযরত উম্মে হানীর
সেই ঘরটি এখন মসজিদুল-হারামের ভিতরে
পড়েছে। স্থানটি সর্বশ্রেণীর বুযুর্গগণের
বিশেষ আকর্ষণের। সার্বক্ষনিক এবাদতকারীগন
অনেকেই এ স্থানে অবস্থান করেন। উম্মে
হানীর নামে পবিত্র মসজিদুল হারামে একটি দরজাও
রয়েছে।
তিনি হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর পরেও
জীবিত ছিলেন। ইমাম আয-যাহাবী বলেনঃ তিনি ৫০
হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তাহযীবুত তাহযীব
গ্রন্থের বর্ণনা মতে তিনি খলীফা মুয়াবিয়া
রাযিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে ইন্তিকাল করেন।
উম্মে হানীর এক ছেলে জা’দা কে আলী
রাযিয়াল্লাহু আনহু খোরাসানের গভর্নর পদে
নিয়োগ করছিলেন। আশা করি এই আলোচনা করার
পর বিবেকবান নাস্তিকরা আর কখনই ৫০ বছর বয়স্কা
বিগতা যৌবণা রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের
আপন চাচাত বোন উম্মে হানীর প্রসঙ্গ
টেনে নিয়ে আসে রাসূলাল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে আর
কোন আজে বাজে কথা বলবে না। তবে
নাস্তিকদের চোখে একজন ৫০ বছর বয়সী
মহিলাকে যদি হলিউঠের Keira Nightly এর মত
সুন্দর লাগে তাইলে আমার আর কিছু বলার নাই।
# তথ্যসূত্রঃ
১/আসহাবে রাসুলের জীবন কথা, আধুনিক
প্রকাশনী।
২/হাদীস চর্চায় মহিলা সাহাবীদের অবদান, ইসলামিক
ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

Logo Design by FlamingText.com

14:00 Share:

উত্তর দিয়েছেন

ভাই নয়ন চৌধুরী  (Nayan Chowdhury)

 


নাস্তিক গ্রুপের এডমিন পোষ্ট করেছেন রাসুল(সাঃ) কে কটুক্তি করে!!
তার বক্তব্য হচ্ছে হাদিসে বলা হয়েছে --
" যে ব্যাক্তি দান করে তা ফিরিয়ে নেয় সে ঐ কুকুরের ন্যায় যে বমি করে আবার তা খায়"! আর রাসুল(সাঃ) খায়বার যুদ্ধের পরে দাহিয়া কলবী (রাঃ) কে দান করে ছিলেন সাফিয়া(রাঃ) কে!
তারপরে আবার তার রুপ দেখে সাফিয়া(রাঃ) কে ফিরিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন!!
অর্থাৎ তিনি প্রথম হাদিসের নিষিদ্ধ ও নিকৃষ্ট কাজ করেছেন!!

উত্তরঃ
উত্তর দেয়ার আগে ক্লিয়ার করা দরকার গনিমত এবং উপহার ও দান কাকে বলে!!
গনিমতঃ আল্লাহ্‌ বলেন--
يَسۡـَٔلُوۡنَكَ عَنِ الۡاَنۡفَالِ‌ؕ قُلِ الۡاَنۡفَالُ لِلّٰهِ وَالرَّسُوۡلِ‌ۚ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَصۡلِحُوۡا ذَاتَ بَيۡنِكُمۡ‌ وَاَطِيۡعُوۡا اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗۤ اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ‏﴾
আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক।সূরা আনফাল ৮:০১
﴿ فَكُلُوۡا مِمَّا غَنِمۡتُمۡ حَلٰلاً طَيِّبًا‌‌‌ ‌ۖوَاتَّقُوۡا اللّٰهَ‌ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِيۡمٌ‏﴾
সুতরাং তোমরা খাও গনীমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।সূরা আনফাল ৮:৬৯
অর্থাৎ বুঝাগেল গনিমত হল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যুদ্ধার বৈধ হক/অধিকার!!
যিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন যুদ্ধজয়ের পরে তিনি নির্ধারিত পরিমানে তার প্রাপ্য পাবেন যুদ্ধলব্ধ মাল থেকে!! এটাকে অনেকটা পারিশ্রমিকের সাথে তুলনা করা যেতে পারে!!
অর্থাৎ এটা তার বৈধ প্রাপ্য হক/অধিকার!!


উপহারঃ
যেকোন ব্যাক্তিকে খুশি হয়ে কিছু প্রদান করাকে উপহার বলে! উপহার ব্যাক্তির প্রাপ্য হক বা অধিকার নয়! এটা প্রদানকারীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে!

দানঃ
যখন কোন অসহায় কে তার অসহায়ত্বের প্রতি দয়া পরবশে কেউ কিছু প্রদান করে তখন তাকে দান বলে!! এটা সম্পূর্ণ রুপে প্রদানকারীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে!!
এখন উল্লেখিত হাদিস দুটি দেখুন যেখানে একস্থানে দিহাহা (রাঃ) বলছেন যে উনাকে গনিমত থেকে একটি দাসী দেয়ার জন্য!!
এখানে "গণিমত" শব্দটি আসার মানে হচ্ছে এটি উনার প্রাপ্য হক!!
আর দ্বিতীয় হাদিসে বলা হয়েছে দান বা উপহারের কথা!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে দান/উপহার আর প্রাপ্য হক কি একই অর্থ বহন করে?
বস্তুত এটা পোষ্ট প্রদানকারীর স্বল্প জ্ঞানের তথ্যই স্পষ্ট করে দেয়!! যে কিনা দান আর প্রাপ্য অধিকারের মাঝে যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে তাই বুঝেন না!


সাফিয়া(রাঃ) এর রুপ দেখে বিয়ে করতে চেয়েছেন এটা ও একটি চরম মিথ্যাচার:
*********************************************************
সাফিয়া(রাঃ) কে নিয়ে মিথ্যাচারের জন্য ইসলাম-বিদ্বেষীরা বুখারী শরীফের একটি হাদীস প্রায়ই ব্যবহার করে থাকে। হাদীসটিতে সামান্য কিছু কথা যোগ করলে আর প্রসঙ্গ বাদ দিলে রাসূল ﷺ খুব সহজেই একজন নিষ্ঠুর মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা যায় বলে এটি ইসলাম-বিদ্বেষী মহলে খুব জনপ্রিয় একটি হাদীসঃ
আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) থেকে বর্ণিত, “আমরা খায়বার জয় করলাম। তখন যুদ্ধবন্দীদের সমবেত করা হল। দিহয়া এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী ﷺ! বন্দীদের মধ্যে থেকে আমাকে একটি দাসী দিন।’ তিনি বললেন, ‘যাও তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও।’ তিনি সাফিয়া বিনত হুয়াই(রাঃ) কে নিলেন।তখন এক ব্যক্তি নবী(সাঃ) এর কাছে এসে বললঃ ইয়া নবী! বনু কোরাইজা ও বনু নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন? তিনি তো একমাত্র আপনারই যোগ্য। তিনি বললেনঃ দিহয়াকে সাফিয়াসহ ডেকে আন। তিনি সাফিয়াসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী ﷺ সাফিয়াকে দেখলেন তিনি(দিহয়াকে)বললেনঃ তুমি বন্দীদের মধ্যে অন্য একজন দাসীকে বেছে নাও। রাবী বলেনঃ নবী ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত(রাঃ) আনাস(রা:) কে জিজ্ঞেস করলেনঃ তিনি তাঁকে কি মোহর দিয়েছিলেন? আনাস(রাঃ) জবাব দিলেনঃ তাঁকে আযাদ করাই তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন।


মুহম্মাদ ﷺ কি সাফিয়া(রাঃ) এর রুপে আসক্ত হয়ে তাঁকে বিয়ে করেছিলেন?
অনেকে বলতে চান যে, হাদিসটিতে বলা আছে, রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে দেখে নিজের জন্য পছন্দ করেছেন, অর্থাৎ রূপ দেখে পাগল হয়েছেন। কিন্তু আরেকটু পিছনে পড়লেই আমরা দেখতে পারি এটা কোন কারণই ছিল না। এক ব্যক্তি যখন রাসূল ﷺ এর কাছে এসে বলল, ‘বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন’-তখন রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে ডেকে পাঠান। গোত্র প্রধানের মেয়ে এবং নেত্রী হিসেবে তিনি মুসলিমদের নেতার সাথেই বিয়ের জন্য সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত। তাই রাসূল(সাঃ) তাকে বিয়ে করেন। যদি এই ব্যক্তিটি এসে এমনটা বলত, ‘বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন’ আর এরপর রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে ডেকে নিয়ে এসে বিয়ে করতেন, তাহলে মুহাম্মদ ﷺ এর দিকে এই অভিযোগ তোলা যেত।


এছাড়া আরবে একটি রীতি ছিল শত্রু যদি গোত্রের কোন মেয়েকে বিয়ে করত তবে তার সাথে তারা শত্রুতা শেষ করে ফেলত। এ কারণেই আবু সুফিয়ানের মেয়ে উম্মে হাবীবাহ(রাঃ) কে রাসূল ﷺ বিয়ে করার কারণে তাঁর সাথে আবু সুফিয়ানের শত্রুতা শেষ হয়ে যায়। রাসূল ﷺ এই বিয়ের মাধ্যমে ইহুদীদের সাথে শত্রুতা শেষ করার জন্য একটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। 


আর বিয়ের আগে সব মুসলিমই তার হবু বধূকে দেখে। এটা রাসূল ﷺ এর নির্দেশ। এর ফলে পুরুষের হৃদয়ে স্ত্রীর জন্য ভালবাসা সৃষ্টি হয়। শুধু ইসলাম না বরং সব ধর্ম আর সংস্কৃতিতে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা নিয়ে এতো লাফালাফি করার কারণ আমার নিকট পরিষ্কার না।
আফসোস হয় এসব জ্ঞানপাপীদের জন্য!! যারা চোখ থাকতে ও অন্ধ আর কান থাকতে ও বধির!!
সাফিয়া(রাঃ)

হাদিস হচ্ছে যে দান করে ফিরিয়ে নেয় সে বমি করে তা কুকুরের মত গিলে খায়। এই কাজটিই করেছিল মুহাম্মদ(সাঃ)। দাহিয়াকে দান করে সাফিয়া(রাঃ) এর রুপ দেখে আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন সাফিয়া(রাঃ) কে।

Posted by Adam Simon  |  No comments

উত্তর দিয়েছেন

ভাই নয়ন চৌধুরী  (Nayan Chowdhury)

 


নাস্তিক গ্রুপের এডমিন পোষ্ট করেছেন রাসুল(সাঃ) কে কটুক্তি করে!!
তার বক্তব্য হচ্ছে হাদিসে বলা হয়েছে --
" যে ব্যাক্তি দান করে তা ফিরিয়ে নেয় সে ঐ কুকুরের ন্যায় যে বমি করে আবার তা খায়"! আর রাসুল(সাঃ) খায়বার যুদ্ধের পরে দাহিয়া কলবী (রাঃ) কে দান করে ছিলেন সাফিয়া(রাঃ) কে!
তারপরে আবার তার রুপ দেখে সাফিয়া(রাঃ) কে ফিরিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছেন!!
অর্থাৎ তিনি প্রথম হাদিসের নিষিদ্ধ ও নিকৃষ্ট কাজ করেছেন!!

উত্তরঃ
উত্তর দেয়ার আগে ক্লিয়ার করা দরকার গনিমত এবং উপহার ও দান কাকে বলে!!
গনিমতঃ আল্লাহ্‌ বলেন--
يَسۡـَٔلُوۡنَكَ عَنِ الۡاَنۡفَالِ‌ؕ قُلِ الۡاَنۡفَالُ لِلّٰهِ وَالرَّسُوۡلِ‌ۚ فَاتَّقُوۡا اللّٰهَ وَاَصۡلِحُوۡا ذَاتَ بَيۡنِكُمۡ‌ وَاَطِيۡعُوۡا اللّٰهَ وَرَسُوۡلَهٗۤ اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ‏﴾
আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক।সূরা আনফাল ৮:০১
﴿ فَكُلُوۡا مِمَّا غَنِمۡتُمۡ حَلٰلاً طَيِّبًا‌‌‌ ‌ۖوَاتَّقُوۡا اللّٰهَ‌ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِيۡمٌ‏﴾
সুতরাং তোমরা খাও গনীমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।সূরা আনফাল ৮:৬৯
অর্থাৎ বুঝাগেল গনিমত হল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী যুদ্ধার বৈধ হক/অধিকার!!
যিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন যুদ্ধজয়ের পরে তিনি নির্ধারিত পরিমানে তার প্রাপ্য পাবেন যুদ্ধলব্ধ মাল থেকে!! এটাকে অনেকটা পারিশ্রমিকের সাথে তুলনা করা যেতে পারে!!
অর্থাৎ এটা তার বৈধ প্রাপ্য হক/অধিকার!!


উপহারঃ
যেকোন ব্যাক্তিকে খুশি হয়ে কিছু প্রদান করাকে উপহার বলে! উপহার ব্যাক্তির প্রাপ্য হক বা অধিকার নয়! এটা প্রদানকারীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে!

দানঃ
যখন কোন অসহায় কে তার অসহায়ত্বের প্রতি দয়া পরবশে কেউ কিছু প্রদান করে তখন তাকে দান বলে!! এটা সম্পূর্ণ রুপে প্রদানকারীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে!!
এখন উল্লেখিত হাদিস দুটি দেখুন যেখানে একস্থানে দিহাহা (রাঃ) বলছেন যে উনাকে গনিমত থেকে একটি দাসী দেয়ার জন্য!!
এখানে "গণিমত" শব্দটি আসার মানে হচ্ছে এটি উনার প্রাপ্য হক!!
আর দ্বিতীয় হাদিসে বলা হয়েছে দান বা উপহারের কথা!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে দান/উপহার আর প্রাপ্য হক কি একই অর্থ বহন করে?
বস্তুত এটা পোষ্ট প্রদানকারীর স্বল্প জ্ঞানের তথ্যই স্পষ্ট করে দেয়!! যে কিনা দান আর প্রাপ্য অধিকারের মাঝে যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে তাই বুঝেন না!


সাফিয়া(রাঃ) এর রুপ দেখে বিয়ে করতে চেয়েছেন এটা ও একটি চরম মিথ্যাচার:
*********************************************************
সাফিয়া(রাঃ) কে নিয়ে মিথ্যাচারের জন্য ইসলাম-বিদ্বেষীরা বুখারী শরীফের একটি হাদীস প্রায়ই ব্যবহার করে থাকে। হাদীসটিতে সামান্য কিছু কথা যোগ করলে আর প্রসঙ্গ বাদ দিলে রাসূল ﷺ খুব সহজেই একজন নিষ্ঠুর মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা যায় বলে এটি ইসলাম-বিদ্বেষী মহলে খুব জনপ্রিয় একটি হাদীসঃ
আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) থেকে বর্ণিত, “আমরা খায়বার জয় করলাম। তখন যুদ্ধবন্দীদের সমবেত করা হল। দিহয়া এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী ﷺ! বন্দীদের মধ্যে থেকে আমাকে একটি দাসী দিন।’ তিনি বললেন, ‘যাও তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও।’ তিনি সাফিয়া বিনত হুয়াই(রাঃ) কে নিলেন।তখন এক ব্যক্তি নবী(সাঃ) এর কাছে এসে বললঃ ইয়া নবী! বনু কোরাইজা ও বনু নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন? তিনি তো একমাত্র আপনারই যোগ্য। তিনি বললেনঃ দিহয়াকে সাফিয়াসহ ডেকে আন। তিনি সাফিয়াসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী ﷺ সাফিয়াকে দেখলেন তিনি(দিহয়াকে)বললেনঃ তুমি বন্দীদের মধ্যে অন্য একজন দাসীকে বেছে নাও। রাবী বলেনঃ নবী ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত(রাঃ) আনাস(রা:) কে জিজ্ঞেস করলেনঃ তিনি তাঁকে কি মোহর দিয়েছিলেন? আনাস(রাঃ) জবাব দিলেনঃ তাঁকে আযাদ করাই তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন।


মুহম্মাদ ﷺ কি সাফিয়া(রাঃ) এর রুপে আসক্ত হয়ে তাঁকে বিয়ে করেছিলেন?
অনেকে বলতে চান যে, হাদিসটিতে বলা আছে, রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে দেখে নিজের জন্য পছন্দ করেছেন, অর্থাৎ রূপ দেখে পাগল হয়েছেন। কিন্তু আরেকটু পিছনে পড়লেই আমরা দেখতে পারি এটা কোন কারণই ছিল না। এক ব্যক্তি যখন রাসূল ﷺ এর কাছে এসে বলল, ‘বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন’-তখন রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে ডেকে পাঠান। গোত্র প্রধানের মেয়ে এবং নেত্রী হিসেবে তিনি মুসলিমদের নেতার সাথেই বিয়ের জন্য সবচেয়ে বেশী উপযুক্ত। তাই রাসূল(সাঃ) তাকে বিয়ে করেন। যদি এই ব্যক্তিটি এসে এমনটা বলত, ‘বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন’ আর এরপর রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ) কে ডেকে নিয়ে এসে বিয়ে করতেন, তাহলে মুহাম্মদ ﷺ এর দিকে এই অভিযোগ তোলা যেত।


এছাড়া আরবে একটি রীতি ছিল শত্রু যদি গোত্রের কোন মেয়েকে বিয়ে করত তবে তার সাথে তারা শত্রুতা শেষ করে ফেলত। এ কারণেই আবু সুফিয়ানের মেয়ে উম্মে হাবীবাহ(রাঃ) কে রাসূল ﷺ বিয়ে করার কারণে তাঁর সাথে আবু সুফিয়ানের শত্রুতা শেষ হয়ে যায়। রাসূল ﷺ এই বিয়ের মাধ্যমে ইহুদীদের সাথে শত্রুতা শেষ করার জন্য একটি হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। 


আর বিয়ের আগে সব মুসলিমই তার হবু বধূকে দেখে। এটা রাসূল ﷺ এর নির্দেশ। এর ফলে পুরুষের হৃদয়ে স্ত্রীর জন্য ভালবাসা সৃষ্টি হয়। শুধু ইসলাম না বরং সব ধর্ম আর সংস্কৃতিতে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। এটা নিয়ে এতো লাফালাফি করার কারণ আমার নিকট পরিষ্কার না।
আফসোস হয় এসব জ্ঞানপাপীদের জন্য!! যারা চোখ থাকতে ও অন্ধ আর কান থাকতে ও বধির!!

12:00 Share:

উত্তর দিয়েছেন 

ভাই নয়ন চৌধুরী  (Nayan Chowdhury)

 নাস্তিক ও ইসলামবিরোধীদের নির্লজ্জ মিথ্যাচারের জবাবঃ



মিথ্যাচারঃ
হাফসা(রাঃ) কে ধোঁকা দিয়ে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে তার কৃতদাসী মারিয়া(রাঃ) এর সাথে সহবাস করেছেন রাসুল(সাঃ) (নাউজুবিল্লাহ)! পরবর্তিতে এই সমস্যার সমাধানের জন্য নিজের ইজ্জত ও পারিবারিক কলহ মইইটাতে সূরা আততাহরিমের প্রথম ৫আয়াত নাজিল করেন(নাউজুবিল্লাহ)!

জবাবঃ
আমরা আততাহরিমের আয়াত থেকে নবীর(সাঃ) স্ত্রীদের দ্বারা কোন পারিবারিক বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলার কথা অনুমান করতে পারলেও তারা কারা এবং কেন কিসের জন্য এই পারিবারিক বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছিলেন তা এই সব আয়াত থেকে জানতে পারিনা।
হাদিসেও স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ নেই তাহলে এখানে ইসলামী-বিরোধী শক্তি মারিয়া রাঃ-এর সাথে মুহাম্মদ সাঃ-এর যৌনতার প্রেক্ষিতে হাফসা রাঃ ও আয়েশা রাঃ-এর প্রতিক্রিয়া কেমন করে আবিষ্কার করল?
তারা আব্বাস রাঃ কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস দিয়ে উল্লেখিত দুইজন স্ত্রী যে আয়েশা রাঃ আর হাফসা রাঃ ছিলেন তা প্রমাণ করতে পারলেও সে হাদিস দিয়ে কিন্তু তাদের উল্লেখিত ঘটনা প্রমাণ করতে পারেনি।


আমরা এখন দেখব বোখারি শরীফে ভল্যুম ৩ বই ৪৩ হাদিস নং ৬৪৮ হাদিসে কী উল্লেখ আছে? 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,
"যে দুইজন নারী সম্পর্কে কোরআন পাকে (আয়াত ৬৬:৪) বলা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে হযরত উমর রাঃ কে প্রশ্ন করার ইচ্ছা বেশ কিছুকাল পর্যন্ত আমার মনে ছিল। অবশেষে একবার তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে আমিও সফরসঙ্গী হয়ে গেলাম। (হজ্জ থেকে ফেরার পথে) ওমর একপাশে গেলে (প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে), আমিও (ওযুর) পানি নিয়ে তার সাথে যাই। যখন তিনি ফিরলেন, আমি তার হাতে পানি ঢালছিলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, "ওহ বিশ্বাসীদের প্রধান! নবী করিম সা. এর কোন দুজন নারীর ব্যাপারে কোরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ যদি তোমরা দুজন তওবা করো।" (৬৬:৪)

তখন উমর রাঃ বললেন, "আমি এবং বনী উমাইয়া বিন জাহিদ গোত্রের আমার এক আনসারী প্রতিবেশী মদীনার আওয়ালীতে বাস করতাম ও পর্যায়ক্রমে রাসুলুল্লাহ সাঃ কাছে যেতাম। তিনি একদিন যেতেন আর আমি অন্যদিন। যেদিন আমি যেতাম রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সেদিনকার আদেশ-নির্দেশাবলী সমেত ঘটনাসমূহ তাকে (প্রতিবেশীকে) বলতাম এবং যেদিন তিনি যেতেন, তিনিও আমার কাছে অনুরূপ করতেন।

আমরা, কোরায়েশ পুরুষরা, যখন মক্কায় বাস করতাম তখন নারীদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করতাম, কিন্তু আমরা যখন মদিনায় আসলাম তখন লক্ষ্য করলাম যে, আনসার নারীরা পুরুষদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করে। ফলে, আমাদের নারীরা আনসার নারীদের অভ্যাস গ্রহণ করতে শুরু করে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি চিৎকার করলে আমার স্ত্রীও আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করলেন ও পাই পাই করে বুঝিয়ে দিলেন। আমি এটা অপছন্দ করলে তিনি বললেন, "আপনাকে প্রতি উত্তর দিলে সেটাকে আপনি খারাপ ভাবে নিচ্ছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী করিম সাঃ এর স্ত্রীরাও তাঁর সাথে মুখে মুখে তর্ক করেছেন এবং স্ত্রীদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত অবধি তাঁর সাথে কথা পর্যন্ত বলেননি।" আমার স্ত্রী যেটি বললো আমাকে ভীত করলো এবং আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তাঁদের মধ্যে যেই এমন করে, সে-ই ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।"


আমি পোশাক পরিধান করে হাফসার কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি কি দিন থেকে রাত অবধি রাসুলুল্লাহ সাঃ কে রাগান্বিত রেখেছ?"
সে হ্যাঁ বোধক জবাব দিল। আমি বললাম, "তুমি বিধ্বস্ত পরাজিত নারী! তুমি কি আল্লাহর রাসুলকে রাগান্বিত করে আল্লাহর ক্রোধের কারণ হতে ভীত হও নাই? এভাবে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে!
(১) আল্লাহর রাসুলকে বেশী কথা বলো না,
(২) কোন অবস্থাতেই তাঁর সাথে মুখে মুখে তর্ক করো না এবং তাঁকে অসন্তুষ্ট করো না।
(৩) তোমার যা খুশী দরকার আমার কাছে চাও এবং
(৪) কখনোই তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রা. কে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।"


——–সে সময় গুজব ছিল যে, ঘাসানরা (শ্যাম দেশের একটি গোত্র) আমাদের আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে ঘোড়া প্রস্তুত করছে। এক রাতে আমার আনসার প্রতিবেশী (তাঁর পালায় রাসুলুল্লাহ সাঃ এর বাড়ি থেকে ফিরে) খুব স্বন্ত্রস্তভাবে আমার দরজায় কড়া নাড়তে লাগলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি হয়েছে? ঘাসানেরা কি এসেছে?" তিনি বললেন, "তারচেয়েও খারাপ, আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ! রাসুলুল্লাহ সাঃ তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন।" আমি বললাম, হাফসা বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি এমনটি আগেই ভেবেছিলাম।


আমি পোশাক পরিধান করে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। এরপরে তিনি উপরের কামরায় চলে গেলেন। আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে ক্রন্দনরত পেলাম। আমি তাকে বললাম, "কেন কাঁদছ? আমি কি তোমাকে আগেই সাবধান করিনি?" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "রাসুলুল্লাহ সাঃ কি তোমাদের সকলকে তালাক দিয়েছেন?" সে বললো, "আমি জানি না। তিনি সেখানে উপরের ঘরে আছেন।"


আমি বের হলাম এবং কিছু মানুষের জটলা দেখতে পেলাম যাদের কেউ কেউ কাঁদছিল। আমি তাদের সাথে কিছুক্ষণ বসলাম, কিন্তু আমি পরিস্থিতি সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই আমি উপরে গেলাম এবং নবীজীর এক কৃষ্ণাঙ্গ দাসকে বললাম, "তুমি কি উমরের জন্য রাসুলুল্লাহ সাঃ এর অনুমতি প্রার্থনা করবে?" সে ভেতরে গেল এবং এসে বললো, "আমি আপনার কথা তাঁর কাছে বলেছি কিন্তু তিনি কোন জবাব দেন নি।" আমি জটলার কাছে ফিরে এসে বসলাম, কিন্তু পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে আবার উপরে দাসের নিকট গিয়ে বললাম, "তুমি কি ওমরের জন্য নবীজীর অনুমতি প্রার্থনা করতে পার?"সে গেল এবং ফিরে এসে একই কথা বললো। যখন আমি ফিরে আসছি, তখন দাস বললো, "রাসুলুল্লাহ সাঃ আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।"

সুতরাং আমি ভিতরে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কাছে গেলাম এবং তাকে একটি মাদুরে শয়নরত অবস্থায় পেলাম। আমি বললাম, "আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন?" তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং না বোধক উত্তর দিলেন। আমি দাঁড়িয়ে বলতে লাগলাম, "আপনি কি আমার কথা শুনবেন? হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কোরায়েশরা নারীদের উপর অধিক কর্তৃত্ব পেতাম, এবং এখানে আমরা যাদের কাছে এসেছি তাদের নারীরা তাদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করে"। এরপরে আমি পুরো ঘটনা তাঁকে বলি (তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে)। এতে তিনি হাসলেন। আমি তখন বললাম, "আমি হাফসার নিকট গিয়েছিলাম এবং তাকে বলেছি: তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রাঃ কে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।" এতে নবীজী আবার হাসলেন। আমি বসলাম এবং বললাম, "আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন আপনার অনুসারীরা অনেক উন্নতি করতে পারে, যেহেতু পারস্যয়ীয়া ও বাইজেন্টাইনরা আল্লাহকে না মেনেও কতই না উন্নতি করেছে, তাদের কতই না সম্পদ।" রাসুলুল্লাহ সাঃ উঠে বসলেন এবং বললেন, "ওহ ইবনে আল খাত্তাব! তোমার কি কোন সন্দেহ আছে (যে এস্থান দুনিয়ার মধ্যে সেরা)? মানুষ তার ভালো কাজেরই কেবল প্রতিফল পায়।"
আমি তাঁকে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বললাম।


এই হাদিস থেকে তাহরীমের চার নং আয়াতের উল্লেখিত স্ত্রী দুইজন আয়েশা রাঃ ও হাফসা রাঃ ছিলেন এবং হাফসা রাঃ আয়েশা রাঃকে রাসুল সাঃ এর প্রতিপক্ষ বানানোর কথা জানতে পারলেও এই পুরা হাদিস থেকে এখানে মারিয়া রাঃ-এর কোন কথার উল্লেখ পাচ্ছিনা!
এইটি কি অবাক করা বিষয় নয়, যে বা যার কারণে পাঁচ পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়েছিল বা মুহাম্মদ সাঃ এই আয়াত নাজিল করে মারিয়া রাঃ এর ঘটনাকে চাপা দিয়েছিলেন সে ঘটনার মূল পাত্রী মারিয়া রাঃ এর কোন উপস্থিতি নেই! এই হাদিস থেকে এই সব আয়াত নাজিলের যে কারণ পাচ্ছি তা হচ্ছে-
১। তোমার যা খুশী দরকার আমার কাছে চাও।
২। এবং কখনোই তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রাঃকে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।


এখান থেকে যা জানা যায় তা হচ্ছে- ১। পার্থিব সুযোগ সুবিধা দাবি করা। ২। আয়েশা রাঃকে রাসুল সাঃ এর প্রতিপক্ষ বানানো।
আবার দেখি- "আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন আপনার অনুসারীরা অনেক উন্নতি করতে পারে, যেহেতু পারস্য বাসরীয়রা ও বাইজেন্টাইনরা আল্লাহকে না মেনেও কতই না উন্নতি করেছে, তাদের কতই না সম্পদ।" রাসুলুল্লাহ সাঃ উঠে বসলেন এবং বললেন, "ওহ ইবনে আল খাত্তাব! তোমার কি কোন সন্দেহ আছে (যে এস্থান দুনিয়ার মধ্যে সেরা)? মানুষ তার ভালো কাজেরই কেবল প্রতিফল পায়।" আমি তাঁকে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বললাম।
এখানেও স্পষ্টত মারিয়া রাঃ এর কোন কথা উল্লেখ করা হয় নাই শুধু আছে সহায় সম্পদ, পার্থিব উন্নতির কথা। এই হাদিসের আড়ালে চাপা পড়ে আছে নবী পত্নীদের চির অভাব অনটন আর কষ্টের কথা। যদিও মর্যাদা, সুবিধা প্রাপ্তি ইত্যাদি নিয়ে স্ত্রীরা প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিলেন তথাপি তারা রাসুল সাঃকে কত গভীর ভালবাসতেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন ঘটনায়।


মুহাম্মদ সাঃ যখন গনিমতের মাল লাভ করতে থাকেন তখন তা সাধারণ গরীব জনসাধারণের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন, নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে কৃচ্ছতায় রাখতেন। আর নবী পত্নীরা সাধারণ জনসাধারণ যে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেই অধিকার পাবার জন্য নবী সাঃ এর উপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। যা মূলতঃ অন্যায় ছিলোনা। সোজা কথায় এই আয়াতগুলো এবং সুরা আযহাবের আয়াতগুলোতেও মারিয়া রাঃ বা নারী ঈর্ষার কোন কথা উল্লেখ করা হয়নি।
সবশেষে আমি চ্যালেঞ্জ করছি সেই অপ প্রচারকারীদেরকে তারা প্রমাণ করুক যে, মারিয়া (রাঃ) হাফসা( রাঃ)এর দাসী ছিলেন।
২য়তঃ প্রমাণ করুক যে মুহাম্মদ সাঃ মিথ্যা কথা বলে হাফসা রাঃ-কে উনার বাবার বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন।


এরা আগেও কখনও পারেনি এখনও তা পারবেনা, কারণ এই অপপ্রচারটি যিনি সর্ব প্রথম নেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই ফেইথফ্রিডমের কর্ণধার আলি সিনাও তা প্রমাণ করতে পারেনি।
মারিয়া কিবতিয়া

মারিয়া কিবতিয়ার ব্যাপারে অভিযোগ। নাস্তিক ও ইসলামবিরোধীদের নির্লজ্জ মিথ্যাচারের জবাব।

Posted by Adam Simon  |  No comments

উত্তর দিয়েছেন 

ভাই নয়ন চৌধুরী  (Nayan Chowdhury)

 নাস্তিক ও ইসলামবিরোধীদের নির্লজ্জ মিথ্যাচারের জবাবঃ



মিথ্যাচারঃ
হাফসা(রাঃ) কে ধোঁকা দিয়ে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে তার কৃতদাসী মারিয়া(রাঃ) এর সাথে সহবাস করেছেন রাসুল(সাঃ) (নাউজুবিল্লাহ)! পরবর্তিতে এই সমস্যার সমাধানের জন্য নিজের ইজ্জত ও পারিবারিক কলহ মইইটাতে সূরা আততাহরিমের প্রথম ৫আয়াত নাজিল করেন(নাউজুবিল্লাহ)!

জবাবঃ
আমরা আততাহরিমের আয়াত থেকে নবীর(সাঃ) স্ত্রীদের দ্বারা কোন পারিবারিক বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলার কথা অনুমান করতে পারলেও তারা কারা এবং কেন কিসের জন্য এই পারিবারিক বিদ্রোহ বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছিলেন তা এই সব আয়াত থেকে জানতে পারিনা।
হাদিসেও স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ নেই তাহলে এখানে ইসলামী-বিরোধী শক্তি মারিয়া রাঃ-এর সাথে মুহাম্মদ সাঃ-এর যৌনতার প্রেক্ষিতে হাফসা রাঃ ও আয়েশা রাঃ-এর প্রতিক্রিয়া কেমন করে আবিষ্কার করল?
তারা আব্বাস রাঃ কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিস দিয়ে উল্লেখিত দুইজন স্ত্রী যে আয়েশা রাঃ আর হাফসা রাঃ ছিলেন তা প্রমাণ করতে পারলেও সে হাদিস দিয়ে কিন্তু তাদের উল্লেখিত ঘটনা প্রমাণ করতে পারেনি।


আমরা এখন দেখব বোখারি শরীফে ভল্যুম ৩ বই ৪৩ হাদিস নং ৬৪৮ হাদিসে কী উল্লেখ আছে? 

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,
"যে দুইজন নারী সম্পর্কে কোরআন পাকে (আয়াত ৬৬:৪) বলা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে হযরত উমর রাঃ কে প্রশ্ন করার ইচ্ছা বেশ কিছুকাল পর্যন্ত আমার মনে ছিল। অবশেষে একবার তিনি হজ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে আমিও সফরসঙ্গী হয়ে গেলাম। (হজ্জ থেকে ফেরার পথে) ওমর একপাশে গেলে (প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে), আমিও (ওযুর) পানি নিয়ে তার সাথে যাই। যখন তিনি ফিরলেন, আমি তার হাতে পানি ঢালছিলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, "ওহ বিশ্বাসীদের প্রধান! নবী করিম সা. এর কোন দুজন নারীর ব্যাপারে কোরআনের এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছেঃ যদি তোমরা দুজন তওবা করো।" (৬৬:৪)

তখন উমর রাঃ বললেন, "আমি এবং বনী উমাইয়া বিন জাহিদ গোত্রের আমার এক আনসারী প্রতিবেশী মদীনার আওয়ালীতে বাস করতাম ও পর্যায়ক্রমে রাসুলুল্লাহ সাঃ কাছে যেতাম। তিনি একদিন যেতেন আর আমি অন্যদিন। যেদিন আমি যেতাম রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সেদিনকার আদেশ-নির্দেশাবলী সমেত ঘটনাসমূহ তাকে (প্রতিবেশীকে) বলতাম এবং যেদিন তিনি যেতেন, তিনিও আমার কাছে অনুরূপ করতেন।

আমরা, কোরায়েশ পুরুষরা, যখন মক্কায় বাস করতাম তখন নারীদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করতাম, কিন্তু আমরা যখন মদিনায় আসলাম তখন লক্ষ্য করলাম যে, আনসার নারীরা পুরুষদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করে। ফলে, আমাদের নারীরা আনসার নারীদের অভ্যাস গ্রহণ করতে শুরু করে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি চিৎকার করলে আমার স্ত্রীও আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করলেন ও পাই পাই করে বুঝিয়ে দিলেন। আমি এটা অপছন্দ করলে তিনি বললেন, "আপনাকে প্রতি উত্তর দিলে সেটাকে আপনি খারাপ ভাবে নিচ্ছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী করিম সাঃ এর স্ত্রীরাও তাঁর সাথে মুখে মুখে তর্ক করেছেন এবং স্ত্রীদের কেউ কেউ দিন থেকে রাত অবধি তাঁর সাথে কথা পর্যন্ত বলেননি।" আমার স্ত্রী যেটি বললো আমাকে ভীত করলো এবং আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তাঁদের মধ্যে যেই এমন করে, সে-ই ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।"


আমি পোশাক পরিধান করে হাফসার কাছে গেলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "তুমি কি দিন থেকে রাত অবধি রাসুলুল্লাহ সাঃ কে রাগান্বিত রেখেছ?"
সে হ্যাঁ বোধক জবাব দিল। আমি বললাম, "তুমি বিধ্বস্ত পরাজিত নারী! তুমি কি আল্লাহর রাসুলকে রাগান্বিত করে আল্লাহর ক্রোধের কারণ হতে ভীত হও নাই? এভাবে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে!
(১) আল্লাহর রাসুলকে বেশী কথা বলো না,
(২) কোন অবস্থাতেই তাঁর সাথে মুখে মুখে তর্ক করো না এবং তাঁকে অসন্তুষ্ট করো না।
(৩) তোমার যা খুশী দরকার আমার কাছে চাও এবং
(৪) কখনোই তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রা. কে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।"


——–সে সময় গুজব ছিল যে, ঘাসানরা (শ্যাম দেশের একটি গোত্র) আমাদের আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে ঘোড়া প্রস্তুত করছে। এক রাতে আমার আনসার প্রতিবেশী (তাঁর পালায় রাসুলুল্লাহ সাঃ এর বাড়ি থেকে ফিরে) খুব স্বন্ত্রস্তভাবে আমার দরজায় কড়া নাড়তে লাগলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কি হয়েছে? ঘাসানেরা কি এসেছে?" তিনি বললেন, "তারচেয়েও খারাপ, আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ! রাসুলুল্লাহ সাঃ তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন।" আমি বললাম, হাফসা বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি এমনটি আগেই ভেবেছিলাম।


আমি পোশাক পরিধান করে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। এরপরে তিনি উপরের কামরায় চলে গেলেন। আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে ক্রন্দনরত পেলাম। আমি তাকে বললাম, "কেন কাঁদছ? আমি কি তোমাকে আগেই সাবধান করিনি?" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "রাসুলুল্লাহ সাঃ কি তোমাদের সকলকে তালাক দিয়েছেন?" সে বললো, "আমি জানি না। তিনি সেখানে উপরের ঘরে আছেন।"


আমি বের হলাম এবং কিছু মানুষের জটলা দেখতে পেলাম যাদের কেউ কেউ কাঁদছিল। আমি তাদের সাথে কিছুক্ষণ বসলাম, কিন্তু আমি পরিস্থিতি সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই আমি উপরে গেলাম এবং নবীজীর এক কৃষ্ণাঙ্গ দাসকে বললাম, "তুমি কি উমরের জন্য রাসুলুল্লাহ সাঃ এর অনুমতি প্রার্থনা করবে?" সে ভেতরে গেল এবং এসে বললো, "আমি আপনার কথা তাঁর কাছে বলেছি কিন্তু তিনি কোন জবাব দেন নি।" আমি জটলার কাছে ফিরে এসে বসলাম, কিন্তু পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে আবার উপরে দাসের নিকট গিয়ে বললাম, "তুমি কি ওমরের জন্য নবীজীর অনুমতি প্রার্থনা করতে পার?"সে গেল এবং ফিরে এসে একই কথা বললো। যখন আমি ফিরে আসছি, তখন দাস বললো, "রাসুলুল্লাহ সাঃ আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন।"

সুতরাং আমি ভিতরে রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কাছে গেলাম এবং তাকে একটি মাদুরে শয়নরত অবস্থায় পেলাম। আমি বললাম, "আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন?" তিনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকালেন এবং না বোধক উত্তর দিলেন। আমি দাঁড়িয়ে বলতে লাগলাম, "আপনি কি আমার কথা শুনবেন? হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কোরায়েশরা নারীদের উপর অধিক কর্তৃত্ব পেতাম, এবং এখানে আমরা যাদের কাছে এসেছি তাদের নারীরা তাদের উপর অধিক কর্তৃত্ব ভোগ করে"। এরপরে আমি পুরো ঘটনা তাঁকে বলি (তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে)। এতে তিনি হাসলেন। আমি তখন বললাম, "আমি হাফসার নিকট গিয়েছিলাম এবং তাকে বলেছি: তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রাঃ কে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।" এতে নবীজী আবার হাসলেন। আমি বসলাম এবং বললাম, "আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন আপনার অনুসারীরা অনেক উন্নতি করতে পারে, যেহেতু পারস্যয়ীয়া ও বাইজেন্টাইনরা আল্লাহকে না মেনেও কতই না উন্নতি করেছে, তাদের কতই না সম্পদ।" রাসুলুল্লাহ সাঃ উঠে বসলেন এবং বললেন, "ওহ ইবনে আল খাত্তাব! তোমার কি কোন সন্দেহ আছে (যে এস্থান দুনিয়ার মধ্যে সেরা)? মানুষ তার ভালো কাজেরই কেবল প্রতিফল পায়।"
আমি তাঁকে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বললাম।


এই হাদিস থেকে তাহরীমের চার নং আয়াতের উল্লেখিত স্ত্রী দুইজন আয়েশা রাঃ ও হাফসা রাঃ ছিলেন এবং হাফসা রাঃ আয়েশা রাঃকে রাসুল সাঃ এর প্রতিপক্ষ বানানোর কথা জানতে পারলেও এই পুরা হাদিস থেকে এখানে মারিয়া রাঃ-এর কোন কথার উল্লেখ পাচ্ছিনা!
এইটি কি অবাক করা বিষয় নয়, যে বা যার কারণে পাঁচ পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়েছিল বা মুহাম্মদ সাঃ এই আয়াত নাজিল করে মারিয়া রাঃ এর ঘটনাকে চাপা দিয়েছিলেন সে ঘটনার মূল পাত্রী মারিয়া রাঃ এর কোন উপস্থিতি নেই! এই হাদিস থেকে এই সব আয়াত নাজিলের যে কারণ পাচ্ছি তা হচ্ছে-
১। তোমার যা খুশী দরকার আমার কাছে চাও।
২। এবং কখনোই তোমার প্রতিবেশীকে (আয়েশা রাঃকে) নবীজীর প্রতিপক্ষ বানিয়ো না, যদিও সে তোমার চেয়ে অধিক সুন্দরী ও মুহম্মদ সাঃ এর বেশী প্রিয়।


এখান থেকে যা জানা যায় তা হচ্ছে- ১। পার্থিব সুযোগ সুবিধা দাবি করা। ২। আয়েশা রাঃকে রাসুল সাঃ এর প্রতিপক্ষ বানানো।
আবার দেখি- "আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন আপনার অনুসারীরা অনেক উন্নতি করতে পারে, যেহেতু পারস্য বাসরীয়রা ও বাইজেন্টাইনরা আল্লাহকে না মেনেও কতই না উন্নতি করেছে, তাদের কতই না সম্পদ।" রাসুলুল্লাহ সাঃ উঠে বসলেন এবং বললেন, "ওহ ইবনে আল খাত্তাব! তোমার কি কোন সন্দেহ আছে (যে এস্থান দুনিয়ার মধ্যে সেরা)? মানুষ তার ভালো কাজেরই কেবল প্রতিফল পায়।" আমি তাঁকে আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কথা বললাম।
এখানেও স্পষ্টত মারিয়া রাঃ এর কোন কথা উল্লেখ করা হয় নাই শুধু আছে সহায় সম্পদ, পার্থিব উন্নতির কথা। এই হাদিসের আড়ালে চাপা পড়ে আছে নবী পত্নীদের চির অভাব অনটন আর কষ্টের কথা। যদিও মর্যাদা, সুবিধা প্রাপ্তি ইত্যাদি নিয়ে স্ত্রীরা প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছিলেন তথাপি তারা রাসুল সাঃকে কত গভীর ভালবাসতেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন ঘটনায়।


মুহাম্মদ সাঃ যখন গনিমতের মাল লাভ করতে থাকেন তখন তা সাধারণ গরীব জনসাধারণের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন, নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে কৃচ্ছতায় রাখতেন। আর নবী পত্নীরা সাধারণ জনসাধারণ যে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেই অধিকার পাবার জন্য নবী সাঃ এর উপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। যা মূলতঃ অন্যায় ছিলোনা। সোজা কথায় এই আয়াতগুলো এবং সুরা আযহাবের আয়াতগুলোতেও মারিয়া রাঃ বা নারী ঈর্ষার কোন কথা উল্লেখ করা হয়নি।
সবশেষে আমি চ্যালেঞ্জ করছি সেই অপ প্রচারকারীদেরকে তারা প্রমাণ করুক যে, মারিয়া (রাঃ) হাফসা( রাঃ)এর দাসী ছিলেন।
২য়তঃ প্রমাণ করুক যে মুহাম্মদ সাঃ মিথ্যা কথা বলে হাফসা রাঃ-কে উনার বাবার বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন।


এরা আগেও কখনও পারেনি এখনও তা পারবেনা, কারণ এই অপপ্রচারটি যিনি সর্ব প্রথম নেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই ফেইথফ্রিডমের কর্ণধার আলি সিনাও তা প্রমাণ করতে পারেনি।

16:00 Share:

উত্তর দিয়েছেন 

ভাই  নয়ন চৌধুরী  (Nayan Chowdhury)


প্রশ্নঃ
নাস্তিকদের দাবী রাসুল(সাঃ) কোরআন এর আইন অমান্য করে ইদ্দতের সময় কালের জন্য অপেক্ষা না করেই সাফিয়া(রাঃ) এর সাথে বিয়ে করেন!


জবাবঃ
******
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন সর্বযুগের,সর্বকালের আদর্শ মানব। বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমত স্বরুপ প্রেরিত। তাই পৃথিবীর সব দেশের এবং সব জনপদের মানুষের উচিত প্রিয় নবীজির আদর্শ আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর জীবন অনুসরণ করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- 'নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ' (সুরা : আহযাব, আয়াত : ২১)। 


তিনি ধনী দরিদ্র সাদা কালো সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। তিনি শুধু দার্শনিকই ছিলেন শুধু তাই নয় বরং তিনি যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা নিজেই এর বাস্তব নমুনা হিসেবে মানবজাতির জন্য পেশ করেছেন। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন অঞ্জাম দিয়েছিলেন অত্যন্ত সুচারু রুপে। রাসুল (সাঃ) পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর একটি জাতিকে শ্রেষ্ট জাতিতে পরিণিত করে পৃথিবীতে অনাগতের জন্যও এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন রেখে গেছেন। 


রাসুল (সাঃ) বিশ্বজাহানে শান্তি প্রতিষ্টার এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, সর্বক্ষেত্রে তিনি সফল ব্যক্তিত্ব। ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায় বলা যায়- If all the world was united under one leader, Muhammad would have been the best fitted man to lead the peoples of various creeds, dogmas and ideas to peace and happiness.
আজ অশান্ত বিশ্বে ক্ষমতার দ্বন্দ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, জাতি গোত্রে হানা-হানি সব কিছুর মুলোৎপাটন করে বিশ্ব মানবতাকে শান্তির সুশীতল চায়া তলে আচ্ছাদিত করতে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ অনুস্বরণের কোন বিকল্প নেই।


উল্লেখিত অভিযোগটি খুব জনপ্রিয় একটা মিথ্যা অভিযোগ। যুদ্ধবন্দীনির ক্ষেত্রে ইদ্দত পালনের বিধানটুকু নবী(সাঃ) অবশ্যই পালন করেছিলেন।তিনি ছিলেন সকল ভুলের উর্ধে। নাস্তিকরা তার কর্ম ও নীতির ভুল খুঁজে নাপেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।


 প্রথমে প্রশ্ন আসে-
বন্দী হিসেবে কি তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল?
*************************************************************
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বন্দীদের নিজেদের মতামতের কোন মূল্য থাকে না। সাফিয়া(রাঃ)কে কি জোর করেই বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছিল? ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে-
“যখন সাফিয়া(রাঃ) রাসূল ﷺ এর সামনে আসলেন তখন নবী(সাঃ) তাঁকে বললেন, ‘ইহুদিদের মধ্যে তোমার পিতা ততক্ষণ পর্যন্ত আমার সাথে শত্রুতা বন্ধ করেনি যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেছেন।’ সাফিয়া(রাঃ) জবাবে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন, ‘কেউই অপরজনের পাপের ভার বহন করবে না [তিনি মূলত বাইবেলের একটা verse উদ্ধৃত করলেন- Ezekiel 18:20]’। তখন রাসূল ﷺ তাঁকে বললেন, ‘ সিদ্ধান্ত তোমার ! তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে আমি তোমাকে নিজের জন্য বেছে নিব। আর যদি তুমি ইহুদি থাকাটাকেই বেছে নাও তবে আমি তোমাকে মুক্ত করে দিব এবং তোমাকে তোমার লোকজনের নিকট পাঠিয়ে দিব। সাফিয়া(রাঃ) জবাবে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আসার পর আপনি আমাকে দাওয়াত দেবার আগেই আমি ইসলামকে গ্রহণ করেছি আর আপনাকে সত্য বলে মেনেছি। ইহুদিদের মাঝে আমার কোন অভিভাবক নেই, বাবা নেই, কোন ভাই ও নেই। আমি ইসলামকে কুফরের উপর প্রাধান্য দিলাম। মুক্ত হয়ে আমার লোকজনের নিকট যাবার চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই আমার নিকট অধিক প্রিয়।
{ তথ্য সূত্রঃ (George Allen & Unwin, 1983), p. 269, Cited in http://www.bismikaallahuma.org/index.php/articles/umm-ul-mukminin-safiyyah-the-jewish-wife-of-muhammadp}


দ্বিতীয়ত,
যুদ্ধ বন্দি এবং সাধারণ তালাক প্রাপ্ত নারীদের বিয়ের বিধানের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা রয়েছে।এ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সাধারণ জ্ঞানহীন নাস্তিকরা না জেনেই অপবাদ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

হাদিস হচ্ছেঃ
আবু সাঈদ খুদরী(রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ আওতাস গোত্রের যুদ্ধবন্দীনির ব্যাপারে বলেন, “গর্ভবতী নারীরা যতক্ষণ পর্যন্ত না সন্তান প্রসব করে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে মিলিত হওয়া যাবে না আর যারা গর্ভবতী নয় তাদের একটি মাসিক না হওয়া পর্যন্ত মিলিত হওয়া যাবে না।অর্থাৎ যুদ্ধবন্দীনিদের ক্ষেত্রে তাদের একটি মাসিক পর্যন্ত সময়টুকুই হচ্ছে ইদ্দত।


সাফিয়া(রাঃ) কিন্তু প্রথমে যুদ্ধবন্দিনীই ছিলেন অতঃপর রাসূল ﷺ তাঁকে মুক্ত করে বিয়ে করেন। বুখারী শরীফের হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি রাসূল ﷺ ইদ্দতের সময়টুকু অপেক্ষা করেছিলেনঃ আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ)কে নিজের জন্য পছন্দ করলেন এবং তাঁকে নিয়ে রওনা দিলেন। একসময় আমরা সাদ-আস-সাহবা নামক স্থানে পৌঁছালাম। এসময় সাফিয়া(রাঃ) তাঁর মাসিক অবস্থা থেকে পবিত্র হলেন। অতঃপর রাসূল(সাঃ) তাঁকে বিয়ে করলেন।(সহি বুখারী)

আশাকরি উত্তরটা পেয়েছেন।
রাসূল সাঃ এর বহু বিবাহ

কোরআন এর আইন অমান্য করে ইদ্দত এর জন্য অপেক্ষা না করে সাফিয়া(রাঃ) কে বিয়ে করেছিল মোহাম্মদ (সাঃ)।

Posted by Adam Simon  |  No comments

উত্তর দিয়েছেন 

ভাই  নয়ন চৌধুরী  (Nayan Chowdhury)


প্রশ্নঃ
নাস্তিকদের দাবী রাসুল(সাঃ) কোরআন এর আইন অমান্য করে ইদ্দতের সময় কালের জন্য অপেক্ষা না করেই সাফিয়া(রাঃ) এর সাথে বিয়ে করেন!


জবাবঃ
******
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন সর্বযুগের,সর্বকালের আদর্শ মানব। বিশ্ব মানবতার জন্য আল্লাহর এক অনন্য রহমত স্বরুপ প্রেরিত। তাই পৃথিবীর সব দেশের এবং সব জনপদের মানুষের উচিত প্রিয় নবীজির আদর্শ আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর জীবন অনুসরণ করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে- 'নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ' (সুরা : আহযাব, আয়াত : ২১)। 


তিনি ধনী দরিদ্র সাদা কালো সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। তিনি শুধু দার্শনিকই ছিলেন শুধু তাই নয় বরং তিনি যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তা নিজেই এর বাস্তব নমুনা হিসেবে মানবজাতির জন্য পেশ করেছেন। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন অঞ্জাম দিয়েছিলেন অত্যন্ত সুচারু রুপে। রাসুল (সাঃ) পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর একটি জাতিকে শ্রেষ্ট জাতিতে পরিণিত করে পৃথিবীতে অনাগতের জন্যও এক অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন রেখে গেছেন। 


রাসুল (সাঃ) বিশ্বজাহানে শান্তি প্রতিষ্টার এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, সর্বক্ষেত্রে তিনি সফল ব্যক্তিত্ব। ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায় বলা যায়- If all the world was united under one leader, Muhammad would have been the best fitted man to lead the peoples of various creeds, dogmas and ideas to peace and happiness.
আজ অশান্ত বিশ্বে ক্ষমতার দ্বন্দ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, জাতি গোত্রে হানা-হানি সব কিছুর মুলোৎপাটন করে বিশ্ব মানবতাকে শান্তির সুশীতল চায়া তলে আচ্ছাদিত করতে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ অনুস্বরণের কোন বিকল্প নেই।


উল্লেখিত অভিযোগটি খুব জনপ্রিয় একটা মিথ্যা অভিযোগ। যুদ্ধবন্দীনির ক্ষেত্রে ইদ্দত পালনের বিধানটুকু নবী(সাঃ) অবশ্যই পালন করেছিলেন।তিনি ছিলেন সকল ভুলের উর্ধে। নাস্তিকরা তার কর্ম ও নীতির ভুল খুঁজে নাপেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।


 প্রথমে প্রশ্ন আসে-
বন্দী হিসেবে কি তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল?
*************************************************************
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বন্দীদের নিজেদের মতামতের কোন মূল্য থাকে না। সাফিয়া(রাঃ)কে কি জোর করেই বিয়েতে বাধ্য করা হয়েছিল? ইতিহাস কিন্তু অন্য কথা বলে-
“যখন সাফিয়া(রাঃ) রাসূল ﷺ এর সামনে আসলেন তখন নবী(সাঃ) তাঁকে বললেন, ‘ইহুদিদের মধ্যে তোমার পিতা ততক্ষণ পর্যন্ত আমার সাথে শত্রুতা বন্ধ করেনি যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেছেন।’ সাফিয়া(রাঃ) জবাবে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন, ‘কেউই অপরজনের পাপের ভার বহন করবে না [তিনি মূলত বাইবেলের একটা verse উদ্ধৃত করলেন- Ezekiel 18:20]’। তখন রাসূল ﷺ তাঁকে বললেন, ‘ সিদ্ধান্ত তোমার ! তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে আমি তোমাকে নিজের জন্য বেছে নিব। আর যদি তুমি ইহুদি থাকাটাকেই বেছে নাও তবে আমি তোমাকে মুক্ত করে দিব এবং তোমাকে তোমার লোকজনের নিকট পাঠিয়ে দিব। সাফিয়া(রাঃ) জবাবে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আসার পর আপনি আমাকে দাওয়াত দেবার আগেই আমি ইসলামকে গ্রহণ করেছি আর আপনাকে সত্য বলে মেনেছি। ইহুদিদের মাঝে আমার কোন অভিভাবক নেই, বাবা নেই, কোন ভাই ও নেই। আমি ইসলামকে কুফরের উপর প্রাধান্য দিলাম। মুক্ত হয়ে আমার লোকজনের নিকট যাবার চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই আমার নিকট অধিক প্রিয়।
{ তথ্য সূত্রঃ (George Allen & Unwin, 1983), p. 269, Cited in http://www.bismikaallahuma.org/index.php/articles/umm-ul-mukminin-safiyyah-the-jewish-wife-of-muhammadp}


দ্বিতীয়ত,
যুদ্ধ বন্দি এবং সাধারণ তালাক প্রাপ্ত নারীদের বিয়ের বিধানের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা রয়েছে।এ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সাধারণ জ্ঞানহীন নাস্তিকরা না জেনেই অপবাদ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

হাদিস হচ্ছেঃ
আবু সাঈদ খুদরী(রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ আওতাস গোত্রের যুদ্ধবন্দীনির ব্যাপারে বলেন, “গর্ভবতী নারীরা যতক্ষণ পর্যন্ত না সন্তান প্রসব করে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে মিলিত হওয়া যাবে না আর যারা গর্ভবতী নয় তাদের একটি মাসিক না হওয়া পর্যন্ত মিলিত হওয়া যাবে না।অর্থাৎ যুদ্ধবন্দীনিদের ক্ষেত্রে তাদের একটি মাসিক পর্যন্ত সময়টুকুই হচ্ছে ইদ্দত।


সাফিয়া(রাঃ) কিন্তু প্রথমে যুদ্ধবন্দিনীই ছিলেন অতঃপর রাসূল ﷺ তাঁকে মুক্ত করে বিয়ে করেন। বুখারী শরীফের হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি রাসূল ﷺ ইদ্দতের সময়টুকু অপেক্ষা করেছিলেনঃ আনাস ইবনে মালিক(রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূল ﷺ সাফিয়া(রাঃ)কে নিজের জন্য পছন্দ করলেন এবং তাঁকে নিয়ে রওনা দিলেন। একসময় আমরা সাদ-আস-সাহবা নামক স্থানে পৌঁছালাম। এসময় সাফিয়া(রাঃ) তাঁর মাসিক অবস্থা থেকে পবিত্র হলেন। অতঃপর রাসূল(সাঃ) তাঁকে বিয়ে করলেন।(সহি বুখারী)

আশাকরি উত্তরটা পেয়েছেন।

14:00 Share:

উত্তর দিয়েছেন 

ভাই  তুহিন আহমেদ  (Tuhin Ahmed)

  মুহম্মদ  কেন যয়নাব(রাঃ) কে বিয়ে করেছিলেন? এর কারণটা জানতে হলে আমাদের ইতিহাসটা একটু নিরেপেক্ষভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে। প্রথমে দেখি, যায়েদ(রাঃ) ও যয়নাব(রাঃ) এর বিয়ে পূর্ব ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট কেমন ছিল। জনপ্রিয় ও অন্যতম বিশুদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ তাফসীর ইবনে কাসির আমাদের বলছে,
.
“রাসূল ﷺ যখন যায়েদ বিন হারেসার পয়গাম নিয়ে যয়নাব বিনতে জাহশ(রাঃ) এর কাছে হাজির হন। তিনি(যয়নব) উত্তর দিলেন, “আমি তাকে বিয়ে করবো না।”[১]
.
যয়নাব(রাঃ) সরাসরি প্রত্যাখ্যান অনেকের কাছে বেশ রুঢ় মনে হতে পারে, কারণ এখানে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন স্বয়ং রাসূল ﷺ। কেন তিনি সরাসরি না করেছিলেন? এর উত্তর দিয়েছেন মাওলানা ইদরীস কান্ধলবী(রহঃ) তার ‘সীরাতে মোস্তফা’ গ্রন্থে। তিনি লিখেছেন,
.
“ যায়েদ বিন হারেছা(রাঃ) ছিলেন রাসূল ﷺ এর আযাদকৃত ক্রীতদাস। অপরদিকে হযরত যয়নাব(রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত খানদান পরিবারের সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত মহিলা। সেই সাথে তিনি ছিলেন রাসূল ﷺ এর ফুফাতো বোন। আর দেশের সামাজিক প্রচলন হিসেবে তারা আযাদকৃত ক্রীতদাসের সাথে আত্নীয়তা গড়াকে খুবই আপত্তিকর,মানহানিকর ও অশোভনীয় বলে বিবেচনা করতেন। আর তাই রাসূল ﷺ যখন তার আযাদকৃত গোলাম যায়েদের জন্য বিবাহের প্রস্তাব দিলেন তখন যয়নাব ও তার ভাই তা সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন।[২]
.
এ পর্যায়ে আল্লাহর নির্দেশ এলোঃ
.
“আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” [৩]
.
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির বর্ণনা করেন, “ এটা(আয়াতটা) শুনে হযরত যায়নাব(রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল ﷺ ! আপনি কি এ বিয়েতে সম্মত আছেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। তখন হযরত যয়নাব(রাঃ) বললেন, ‘তাহলে আমারও কোন আপত্তি নেই। আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ এর বিরোধিতা করবো না, আমি তাকে আমার স্বামী হিসেবে বরণ করে নিলাম।’[১]
.
যারা আলোচনার দীর্ঘসূত্রিতায় বিরক্ত হচ্ছেন, তাদেরকে বলব ধৈর্য ধরে আরেকটু পড়ে যেতে। কারণ,এতোক্ষণ যা আলোচনা করেছি তা অনেক সন্দেহ নিরসন করবে। সূরা আল আহযাবের ৩৮ নং আয়াত এখানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে উল্লেখ করছিঃ
.
i) আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন: এ আয়াতে যায়েদ বিন হারেছার(রাঃ) কথা বলা হয়েছে। তার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ছিল। তাকে আল্লাহ ইসলাম ও নবী ﷺ কে খুব কাছ থেকে অনুসরণের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যায়েদ(রাঃ) যখন খাদিজা(রাঃ) এর ক্রীতদাস ছিলেন, তখন তার চাল-চলন রাসূল ﷺ কে মুগ্ধ করে এবং তিনি তাকে মুক্ত করে দেন। তিনি ছিলেন রাসূল ﷺ এর পালকপুত্র আর সবাই তাকে যায়েদ বিন মুহম্মদ” ডাকত। এটা ছিল যায়েদ(রাঃ) এর প্রতি রাসূল ﷺ এর বিশেষ অনুগ্রহ।
.
কিন্তু আল্লাহতায়ালা পালক পুত্রের বিধান রহিত করে দিলেন এবং পিতৃ-পরিচয় জানার পরেও কাউকে ভিন্ন নামে ডাকতে নিষেধ করে দিলেনঃ
“আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।” [৪]
.
আল্লাহ খুব সুন্দরভাবে আমাদের উপমা দিয়ে বোঝাচ্ছেন; যেভাবে মানুষের মধ্যে দুইটা মন থাকতে পারে না, ঠিক একইভাবে কেউ পুত্র না হয়েই পুত্রের পরিচয় বহন করতে পারে না, এটা আমাদের মুখের কথা মাত্র এবং আমাদের মনের সাথে তার কোন সংযোগ নেই।
.
তেমনিভাবে,যদি নিজেদের স্ত্রীকে মায়ের সাথে তুলনা করি(যিহার), তবে তারা আমাদের মা হয়ে যায় না, স্ত্রীই থাকে। তাই পরবর্তীতে রাসূল(সাঃ) আর যায়েদ(রাঃ) কে নিজের পুত্র হিসেবে সম্বোধন করেননি, বরং বলেছিলেন, “তুমি আমার ভাই এবং বন্ধু।” [৫]
.
ii) তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর: এ আয়াতটি আলোচনায় চলুন আবার ‘সীরাতে মোস্তফা’ গ্রন্থটিতে ফিরে যাওয়া যাকঃ “আল্লাহর হুকুম মোতাবেক হযরত যায়েদ বিন হারিছা(রাঃ) এর সাথে হযরত যয়নব(রাঃ)- এর বিবাহ হয়ে গেল। বিবাহ তো হয়ে গেল, কিন্তু যায়নাবের দৃষ্টিতে যায়দ নীচ ও হীনই রইলেন। ফলে তাদের মধ্যে বনিবনা হলো না মোটেই। হযরত যায়েদ(রাঃ) বারবার রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর নিকট যায়নাব(রাঃ)-এর বেপরোয়া ভাবভংগি এবং যায়দকে উপেক্ষা করার অভিযোগ করতে লাগলেন। এ অবস্থায় তিনি বারবার যায়নাবকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন।” রাসূল(সাঃ) বিয়ে ভাঙ্গতে নিষেধ করেন এবং বলেন, ‘তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর।’ [৬]
.
iii) আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিতঃ পূর্বে ইমাম তাবারী (রহ.) থেকে যে বর্ণনা উল্লেখ করেছি,তার সাহায্যে অনেকেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ‘অন্তরে এমন বিষয় গোপন করেছিলেন’ বলতে নবী ﷺ এর যয়নাব(রাঃ) এর প্রতি হঠাৎ আসক্ত হয়ে পড়াকে বোঝানো হয়েছে। পাশ্চাত্যের অনেক লেখকই এ বর্ণনার সাথে নিজেদের কল্পনার রং ছড়িয়ে যাচ্ছে-তাই লিখেছেন তাদের বইয়ে।[৭]}
 

.
হঠাৎ আসক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি আসলে কিছু মানবমনের কল্পনা ছাড়া কিছুই না। কারণ,
.
প্রথমত, ইমাম তাবারী যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তা নির্ভরযোগ্য নয়।
দ্বিতীয়ত, যদিও ধরে নেই সে হাদীস নির্ভরযোগ্য,তবুও রাসূল ﷺ এর হঠাৎ যয়নাবের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়াটা অবাস্তব। কারণ, যয়নাব(রাঃ) ছিলেন রাসূল ﷺ এর ফুফাতো বোন। রাসূল ﷺ তার রূপ,গুণ সম্পর্কে বহু পূর্বে অবগত ছিলেন।
.
তৃতীয়ত, যদি এটাও ধরে নেই তিনি আসলেই যয়নাবের প্রতি আসক্ত ছিলেন, তাহলে কেন তিনি যয়নাবকে যায়েদের সাথে বিয়ে দিবেন? সেরকমটা হলে তো তিনি নিজের জন্যই প্রস্তাব দিতেন।
.
তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, ‘অন্তরে যে বিষয় গোপন করেছিলেন’ বলতে তাহলে কি বুঝানো হয়েছে? মুসনাদে আবু হাতিমে রয়েছে যে, যয়নাব বিনতে জাহশ(রাঃ) যে রাসূল ﷺ এর স্ত্রী হবেন, এ কথা বহু পূর্বে আল্লাহ তাকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু রাসূল(সাঃ) এ কথা প্রকাশ করেননি বরং তিনি যায়েদ(রাঃ) কে স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে বলেছিলেন। তাই আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করে বোঝালেন এ কথা রাসূল(সাঃ) যতই গোপন রাখুন না কেন, আল্লাহতায়ালা তা প্রকাশ করে দিবেন।
.
iv) অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকেঃ
.
এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা একেবারে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, কেন আল্লাহতায়ালা যয়নাব(রাঃ) কে রাসূল ﷺ এর সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে পোষ্যপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করার মাধ্যমে ‘পালকপ্রথা’ চিরতরে দূর হয়ে যায়। পরবর্তীতে যায়েদ(রাঃ) যখন যয়নাব(রাঃ) এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়, তখন রাসূল(সাঃ) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
.
যয়নাব(রাঃ), রাসূল ﷺ কে বলতেন, ‘আল্লাহতায়ালা আমার মধ্যে এমন তিনটি বিশেষত্ব রেখেছেন যা আপনার অন্যান্য স্ত্রীদের মাঝে নেই। প্রথম এই যে, আমার নানা ও আপনার দাদা একই ব্যক্তি। দ্বিতীয় এই যে, আপনার সাথে আমার বিয়ে আল্লাহতায়ালা আকাশে পড়িয়েছেন।আর তৃতীয় এই যে, আমাদের মাঝে সংবাদ-বাহক ছিলেন হযরত জিবরাইল(আঃ)।’
.
যয়নাব(রাঃ), রাসূল ﷺ এর অন্যান্য স্ত্রীদের সাথে বেশ গর্ব করে বলতেন, ‘তোমাদের বিয়ে দিয়েছেন তোমাদের অভিভাবক ও ওয়ারিশগণ। আর আমার বিয়ে দিয়ছেন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা সপ্তম আকাশের উপর।’[৮]
.
যারা পারষ্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ইনসেস্ট,সমকামিতার মত জঘন্য বিষয়গুলোকে বৈধতার রায় দেন, তারা এরপরেও ঠিক কিসের ভিত্তিতে এই বিয়ে নিয়ে আপত্তি তুলেন তা আমার বোধগম্য নয়। আর আমার এই লিখাটা তাদের জন্যও নয় যাদের একমাত্র রেফারেন্স হচ্ছে ইসলাম-বিদ্বেষ। এ লেখাটা তাদের জন্য যারা হৃদয় দিয়ে সত্য খুঁজে।
.
আমি বিশ্বাস করি হৃদয়টাকে খোলা রেখে সত্য খুঁজলে পরম করুনাময় তার করুণার ধারা অবশ্যই বর্ষণ করবেন।
=============================
[১] তাফসীর ইবনে কাসির-১৫ নং খন্ড, পৃষ্ঠা-৮০৫
[২] সীরাতে মোস্তফা-মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী(রহ.),পৃষ্ঠা- ৭২৮
[৩] আল কুরআন ,সূরা আল আহযাব,আয়াতঃ৩৬
[৪] আল কুরআন, সূরা আল আহযাব, আয়াতঃ৪
[৫]তাফসীর ইবনে কাসির, ১৫ নং খন্ড, পৃষ্ঠা-৭৩৮
[৬] সীরাতে মোস্তফা-মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী(রহ.),পৃষ্ঠা- ৭২৮
[৭] Muir,W-The life of Mohamet,Vol.3,page-231
[৮] সহীহ বুখারী

যয়নাব

মুহাম্মাদ (সাঃ) তার পুত্রের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে!!! নাস্তিকদের অপপ্রচারের জবাব

Posted by Adam Simon  |  No comments

উত্তর দিয়েছেন 

ভাই  তুহিন আহমেদ  (Tuhin Ahmed)

  মুহম্মদ  কেন যয়নাব(রাঃ) কে বিয়ে করেছিলেন? এর কারণটা জানতে হলে আমাদের ইতিহাসটা একটু নিরেপেক্ষভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে। প্রথমে দেখি, যায়েদ(রাঃ) ও যয়নাব(রাঃ) এর বিয়ে পূর্ব ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট কেমন ছিল। জনপ্রিয় ও অন্যতম বিশুদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ তাফসীর ইবনে কাসির আমাদের বলছে,
.
“রাসূল ﷺ যখন যায়েদ বিন হারেসার পয়গাম নিয়ে যয়নাব বিনতে জাহশ(রাঃ) এর কাছে হাজির হন। তিনি(যয়নব) উত্তর দিলেন, “আমি তাকে বিয়ে করবো না।”[১]
.
যয়নাব(রাঃ) সরাসরি প্রত্যাখ্যান অনেকের কাছে বেশ রুঢ় মনে হতে পারে, কারণ এখানে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন স্বয়ং রাসূল ﷺ। কেন তিনি সরাসরি না করেছিলেন? এর উত্তর দিয়েছেন মাওলানা ইদরীস কান্ধলবী(রহঃ) তার ‘সীরাতে মোস্তফা’ গ্রন্থে। তিনি লিখেছেন,
.
“ যায়েদ বিন হারেছা(রাঃ) ছিলেন রাসূল ﷺ এর আযাদকৃত ক্রীতদাস। অপরদিকে হযরত যয়নাব(রাঃ) ছিলেন অত্যন্ত খানদান পরিবারের সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত মহিলা। সেই সাথে তিনি ছিলেন রাসূল ﷺ এর ফুফাতো বোন। আর দেশের সামাজিক প্রচলন হিসেবে তারা আযাদকৃত ক্রীতদাসের সাথে আত্নীয়তা গড়াকে খুবই আপত্তিকর,মানহানিকর ও অশোভনীয় বলে বিবেচনা করতেন। আর তাই রাসূল ﷺ যখন তার আযাদকৃত গোলাম যায়েদের জন্য বিবাহের প্রস্তাব দিলেন তখন যয়নাব ও তার ভাই তা সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন।[২]
.
এ পর্যায়ে আল্লাহর নির্দেশ এলোঃ
.
“আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।” [৩]
.
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির বর্ণনা করেন, “ এটা(আয়াতটা) শুনে হযরত যায়নাব(রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল ﷺ ! আপনি কি এ বিয়েতে সম্মত আছেন?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’। তখন হযরত যয়নাব(রাঃ) বললেন, ‘তাহলে আমারও কোন আপত্তি নেই। আমি আল্লাহর রাসূল ﷺ এর বিরোধিতা করবো না, আমি তাকে আমার স্বামী হিসেবে বরণ করে নিলাম।’[১]
.
যারা আলোচনার দীর্ঘসূত্রিতায় বিরক্ত হচ্ছেন, তাদেরকে বলব ধৈর্য ধরে আরেকটু পড়ে যেতে। কারণ,এতোক্ষণ যা আলোচনা করেছি তা অনেক সন্দেহ নিরসন করবে। সূরা আল আহযাবের ৩৮ নং আয়াত এখানে ভেঙ্গে ভেঙ্গে উল্লেখ করছিঃ
.
i) আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন: এ আয়াতে যায়েদ বিন হারেছার(রাঃ) কথা বলা হয়েছে। তার প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ছিল। তাকে আল্লাহ ইসলাম ও নবী ﷺ কে খুব কাছ থেকে অনুসরণের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যায়েদ(রাঃ) যখন খাদিজা(রাঃ) এর ক্রীতদাস ছিলেন, তখন তার চাল-চলন রাসূল ﷺ কে মুগ্ধ করে এবং তিনি তাকে মুক্ত করে দেন। তিনি ছিলেন রাসূল ﷺ এর পালকপুত্র আর সবাই তাকে যায়েদ বিন মুহম্মদ” ডাকত। এটা ছিল যায়েদ(রাঃ) এর প্রতি রাসূল ﷺ এর বিশেষ অনুগ্রহ।
.
কিন্তু আল্লাহতায়ালা পালক পুত্রের বিধান রহিত করে দিলেন এবং পিতৃ-পরিচয় জানার পরেও কাউকে ভিন্ন নামে ডাকতে নিষেধ করে দিলেনঃ
“আল্লাহ কোন মানুষের মধ্যে দুটি হৃদয় স্থাপন করেননি। তোমাদের স্ত্রীগণ যাদের সাথে তোমরা যিহার কর, তাদেরকে তোমাদের জননী করেননি এবং তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।” [৪]
.
আল্লাহ খুব সুন্দরভাবে আমাদের উপমা দিয়ে বোঝাচ্ছেন; যেভাবে মানুষের মধ্যে দুইটা মন থাকতে পারে না, ঠিক একইভাবে কেউ পুত্র না হয়েই পুত্রের পরিচয় বহন করতে পারে না, এটা আমাদের মুখের কথা মাত্র এবং আমাদের মনের সাথে তার কোন সংযোগ নেই।
.
তেমনিভাবে,যদি নিজেদের স্ত্রীকে মায়ের সাথে তুলনা করি(যিহার), তবে তারা আমাদের মা হয়ে যায় না, স্ত্রীই থাকে। তাই পরবর্তীতে রাসূল(সাঃ) আর যায়েদ(রাঃ) কে নিজের পুত্র হিসেবে সম্বোধন করেননি, বরং বলেছিলেন, “তুমি আমার ভাই এবং বন্ধু।” [৫]
.
ii) তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর: এ আয়াতটি আলোচনায় চলুন আবার ‘সীরাতে মোস্তফা’ গ্রন্থটিতে ফিরে যাওয়া যাকঃ “আল্লাহর হুকুম মোতাবেক হযরত যায়েদ বিন হারিছা(রাঃ) এর সাথে হযরত যয়নব(রাঃ)- এর বিবাহ হয়ে গেল। বিবাহ তো হয়ে গেল, কিন্তু যায়নাবের দৃষ্টিতে যায়দ নীচ ও হীনই রইলেন। ফলে তাদের মধ্যে বনিবনা হলো না মোটেই। হযরত যায়েদ(রাঃ) বারবার রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর নিকট যায়নাব(রাঃ)-এর বেপরোয়া ভাবভংগি এবং যায়দকে উপেক্ষা করার অভিযোগ করতে লাগলেন। এ অবস্থায় তিনি বারবার যায়নাবকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন।” রাসূল(সাঃ) বিয়ে ভাঙ্গতে নিষেধ করেন এবং বলেন, ‘তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর।’ [৬]
.
iii) আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিতঃ পূর্বে ইমাম তাবারী (রহ.) থেকে যে বর্ণনা উল্লেখ করেছি,তার সাহায্যে অনেকেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ‘অন্তরে এমন বিষয় গোপন করেছিলেন’ বলতে নবী ﷺ এর যয়নাব(রাঃ) এর প্রতি হঠাৎ আসক্ত হয়ে পড়াকে বোঝানো হয়েছে। পাশ্চাত্যের অনেক লেখকই এ বর্ণনার সাথে নিজেদের কল্পনার রং ছড়িয়ে যাচ্ছে-তাই লিখেছেন তাদের বইয়ে।[৭]}
 

.
হঠাৎ আসক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি আসলে কিছু মানবমনের কল্পনা ছাড়া কিছুই না। কারণ,
.
প্রথমত, ইমাম তাবারী যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তা নির্ভরযোগ্য নয়।
দ্বিতীয়ত, যদিও ধরে নেই সে হাদীস নির্ভরযোগ্য,তবুও রাসূল ﷺ এর হঠাৎ যয়নাবের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়াটা অবাস্তব। কারণ, যয়নাব(রাঃ) ছিলেন রাসূল ﷺ এর ফুফাতো বোন। রাসূল ﷺ তার রূপ,গুণ সম্পর্কে বহু পূর্বে অবগত ছিলেন।
.
তৃতীয়ত, যদি এটাও ধরে নেই তিনি আসলেই যয়নাবের প্রতি আসক্ত ছিলেন, তাহলে কেন তিনি যয়নাবকে যায়েদের সাথে বিয়ে দিবেন? সেরকমটা হলে তো তিনি নিজের জন্যই প্রস্তাব দিতেন।
.
তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, ‘অন্তরে যে বিষয় গোপন করেছিলেন’ বলতে তাহলে কি বুঝানো হয়েছে? মুসনাদে আবু হাতিমে রয়েছে যে, যয়নাব বিনতে জাহশ(রাঃ) যে রাসূল ﷺ এর স্ত্রী হবেন, এ কথা বহু পূর্বে আল্লাহ তাকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু রাসূল(সাঃ) এ কথা প্রকাশ করেননি বরং তিনি যায়েদ(রাঃ) কে স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে বলেছিলেন। তাই আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করে বোঝালেন এ কথা রাসূল(সাঃ) যতই গোপন রাখুন না কেন, আল্লাহতায়ালা তা প্রকাশ করে দিবেন।
.
iv) অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকেঃ
.
এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা একেবারে পরিষ্কারভাবে বলেছেন, কেন আল্লাহতায়ালা যয়নাব(রাঃ) কে রাসূল ﷺ এর সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে পোষ্যপুত্রের স্ত্রীকে বিয়ে করার মাধ্যমে ‘পালকপ্রথা’ চিরতরে দূর হয়ে যায়। পরবর্তীতে যায়েদ(রাঃ) যখন যয়নাব(রাঃ) এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যায়, তখন রাসূল(সাঃ) তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন।
.
যয়নাব(রাঃ), রাসূল ﷺ কে বলতেন, ‘আল্লাহতায়ালা আমার মধ্যে এমন তিনটি বিশেষত্ব রেখেছেন যা আপনার অন্যান্য স্ত্রীদের মাঝে নেই। প্রথম এই যে, আমার নানা ও আপনার দাদা একই ব্যক্তি। দ্বিতীয় এই যে, আপনার সাথে আমার বিয়ে আল্লাহতায়ালা আকাশে পড়িয়েছেন।আর তৃতীয় এই যে, আমাদের মাঝে সংবাদ-বাহক ছিলেন হযরত জিবরাইল(আঃ)।’
.
যয়নাব(রাঃ), রাসূল ﷺ এর অন্যান্য স্ত্রীদের সাথে বেশ গর্ব করে বলতেন, ‘তোমাদের বিয়ে দিয়েছেন তোমাদের অভিভাবক ও ওয়ারিশগণ। আর আমার বিয়ে দিয়ছেন স্বয়ং আল্লাহতায়ালা সপ্তম আকাশের উপর।’[৮]
.
যারা পারষ্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ইনসেস্ট,সমকামিতার মত জঘন্য বিষয়গুলোকে বৈধতার রায় দেন, তারা এরপরেও ঠিক কিসের ভিত্তিতে এই বিয়ে নিয়ে আপত্তি তুলেন তা আমার বোধগম্য নয়। আর আমার এই লিখাটা তাদের জন্যও নয় যাদের একমাত্র রেফারেন্স হচ্ছে ইসলাম-বিদ্বেষ। এ লেখাটা তাদের জন্য যারা হৃদয় দিয়ে সত্য খুঁজে।
.
আমি বিশ্বাস করি হৃদয়টাকে খোলা রেখে সত্য খুঁজলে পরম করুনাময় তার করুণার ধারা অবশ্যই বর্ষণ করবেন।
=============================
[১] তাফসীর ইবনে কাসির-১৫ নং খন্ড, পৃষ্ঠা-৮০৫
[২] সীরাতে মোস্তফা-মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী(রহ.),পৃষ্ঠা- ৭২৮
[৩] আল কুরআন ,সূরা আল আহযাব,আয়াতঃ৩৬
[৪] আল কুরআন, সূরা আল আহযাব, আয়াতঃ৪
[৫]তাফসীর ইবনে কাসির, ১৫ নং খন্ড, পৃষ্ঠা-৭৩৮
[৬] সীরাতে মোস্তফা-মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী(রহ.),পৃষ্ঠা- ৭২৮
[৭] Muir,W-The life of Mohamet,Vol.3,page-231
[৮] সহীহ বুখারী

12:00 Share:

কম বয়স্ক, আয়েশাকে ( রাঃ ) বিয়ের কারন কি??
রাসূল সাঃ এর ব্যাপারে যে ভুলটি সকলেই করে 

তা হলো উনাকে মাত্র একটি যুগের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চায়! সকলেই শুধু আধুনিক যুগের দাড়ি পাল্লায় উনাকে মাপতে চায় ৷ প্রকৃতপক্ষে রাসূল (সাঃ) অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য এক অতি উত্তম আদর্শ ৷ সকল যুগের হাজার হাজার কোটি মানুষের সমস্যার সমাধান উনাকে দিতে হয়েছে ৷
মূলত, মাত্র একটি যুগের দাড়িপাল্লায় মাপতে যেয়েই আয়েশা (রাঃ)এর সাথে বিয়ে নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয় ৷
এখন অনেক দেশে গড় আয়ু প্রায় 70 বছর ৷ কিন্তু 1200 বছর পূর্বে এমন অনেক দেশ ছিল যেখানে গড় আয়ু 40/50 ও ছিলনা! এমনকি 1400 বছর পূর্বে আরবের গড় আয়ু ছিল মাত্র 35+ তখন কোন বয়সে বিয়ে করত তারা? 16/17/18/ কোন বয়সে? 18 বছর বয়সে বিয়ে করলে সন্তান জন্ম দেবে কখন আর মানুষ করবে কখন? এই বিষয়টি কি ভেবে দেখেছেন?70 বছর গড় আয়ু যখন তখন ও অনেক দেশে বিয়ের বৈধ বয়স মাত্র 12/13 বছর ৷ এমনকি মাত্র 200বছর পূর্বেও অনেক উন্নত দেশেই সর্বনিম্ন বয়স সীমা 7/8 ছিল
তাহলে 1400 বছর পূর্বে 9 বছরে বিয়ে অবৈধ কেন হবে??


 
বর্তমানে ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশে 12/14/15/16 বছর বয়সে বিয়ে বৈধ

 পূর্বের বিভিন্ন দেশে বিয়ের বয়স

পূর্বের গড় আয়ু


মূল কথায় আসি,
ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান ৷ বিয়ের বয়স কত থেকে শুরু হয়, একমাত্র আয়েশা (রাঃ )এর বিয়ের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি ৷ যদি এই বিয়ে না হত,তবে বিগত 1400 বছর মুসলমানরা জানতেই পারতনা বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স সীমা! তখন নাস্তিকরা বলত" ইসলামে বিয়ের সময় কত বছর বয়স হতে শুরু হয় তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি ৷ অতএব ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান নয়! "
কোরআনের আয়াতের ব্যাপক ভুল এবং অপব্যাখ্যা দিয়ে 12 টা বাজিয়ে ছাড়ত!!!!
কোরআনে বলা হয়েছে

وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ وَأُوْلَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا (4
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।
এখন মাসিক শুরু হবার পূর্বে বলতে কত বছর বয়সে বিয়ে বৈধ??? অনেকেরই 16 বছর বয়সেও মাসিক হয়না রোগের কারনে!!! যেহেতু নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ নেই ৷ ফলে ব্যাপক ভাবে বিতর্ক সৃষ্টি হত ৷
কিন্তু আয়েশা রাঃ এর বিয়ের কারনে আমরা নূন্যতম বয়স সীমা জানতে পেরেছি ৷আমরা জানতে পেরেছি যেকোন বয়সে বিয়ে বৈধ তবে যতদিন পর্যন্ত স্ত্রী শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সংসার করার মত যোগ্যতা অর্জন করবেনা ততদিন পর্যন্ত স্বামীর সংসারে যেতে পারবে না ৷ সবচেয়ে ভাল হয় মাসিকের পূর্বে স্বামীর সংসার না করা ৷এ কারনেই রাসূল সাঃ বিয়ের পর তিন বছর অপেক্ষা করেন সংসার শুরু করার জন্য ৷ মনে রাখবেন, অনেক নারীদের দ্রুত শারীরিক বিকাশ হয় এবং অনেকেরই দেরীতে হয় ৷ সকলেরই এক বয়সে শারীরিক বিকাশ পরিপূর্ণ হয় না ৷ 
https://islamqa.info/en/22442


প্রশ্ন আসতে পারে, কেন বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নাই??? কারন পৃথিবীর সকল স্থানে মেয়েদের মাসিক বা maturity একই বয়সে হয়না ৷উষ্ণ অঞ্চলে তাড়াতাড়ি এবং শীত প্রধান অঞ্চলে maturity দেরিতে আসে ৷ ফলে যদি একটি বয়স নির্ধারন করা হত তবে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হত!
(বিঃদ্রঃ আয়েশা রাঃ নিজে বা উনার মা, বাবা কখনও এই বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেননি ৷)


উত্তর দিয়েছেন

ভাই চয়ন চৌধুরী  Chayan Chowdhury

রাসূল সাঃ ও আয়েশার বিবাহ

রাসূল সাঃ ও আয়েশারাঃ এর বিবাহ : নাস্তিকদের মিথ্যাচারের জবাব-২

Posted by Adam Simon  |  No comments


কম বয়স্ক, আয়েশাকে ( রাঃ ) বিয়ের কারন কি??
রাসূল সাঃ এর ব্যাপারে যে ভুলটি সকলেই করে 

তা হলো উনাকে মাত্র একটি যুগের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চায়! সকলেই শুধু আধুনিক যুগের দাড়ি পাল্লায় উনাকে মাপতে চায় ৷ প্রকৃতপক্ষে রাসূল (সাঃ) অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য এক অতি উত্তম আদর্শ ৷ সকল যুগের হাজার হাজার কোটি মানুষের সমস্যার সমাধান উনাকে দিতে হয়েছে ৷
মূলত, মাত্র একটি যুগের দাড়িপাল্লায় মাপতে যেয়েই আয়েশা (রাঃ)এর সাথে বিয়ে নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয় ৷
এখন অনেক দেশে গড় আয়ু প্রায় 70 বছর ৷ কিন্তু 1200 বছর পূর্বে এমন অনেক দেশ ছিল যেখানে গড় আয়ু 40/50 ও ছিলনা! এমনকি 1400 বছর পূর্বে আরবের গড় আয়ু ছিল মাত্র 35+ তখন কোন বয়সে বিয়ে করত তারা? 16/17/18/ কোন বয়সে? 18 বছর বয়সে বিয়ে করলে সন্তান জন্ম দেবে কখন আর মানুষ করবে কখন? এই বিষয়টি কি ভেবে দেখেছেন?70 বছর গড় আয়ু যখন তখন ও অনেক দেশে বিয়ের বৈধ বয়স মাত্র 12/13 বছর ৷ এমনকি মাত্র 200বছর পূর্বেও অনেক উন্নত দেশেই সর্বনিম্ন বয়স সীমা 7/8 ছিল
তাহলে 1400 বছর পূর্বে 9 বছরে বিয়ে অবৈধ কেন হবে??


 
বর্তমানে ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশে 12/14/15/16 বছর বয়সে বিয়ে বৈধ

 পূর্বের বিভিন্ন দেশে বিয়ের বয়স

পূর্বের গড় আয়ু


মূল কথায় আসি,
ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান ৷ বিয়ের বয়স কত থেকে শুরু হয়, একমাত্র আয়েশা (রাঃ )এর বিয়ের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি ৷ যদি এই বিয়ে না হত,তবে বিগত 1400 বছর মুসলমানরা জানতেই পারতনা বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স সীমা! তখন নাস্তিকরা বলত" ইসলামে বিয়ের সময় কত বছর বয়স হতে শুরু হয় তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি ৷ অতএব ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান নয়! "
কোরআনের আয়াতের ব্যাপক ভুল এবং অপব্যাখ্যা দিয়ে 12 টা বাজিয়ে ছাড়ত!!!!
কোরআনে বলা হয়েছে

وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِن نِّسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ وَأُوْلَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا (4
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।
এখন মাসিক শুরু হবার পূর্বে বলতে কত বছর বয়সে বিয়ে বৈধ??? অনেকেরই 16 বছর বয়সেও মাসিক হয়না রোগের কারনে!!! যেহেতু নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ নেই ৷ ফলে ব্যাপক ভাবে বিতর্ক সৃষ্টি হত ৷
কিন্তু আয়েশা রাঃ এর বিয়ের কারনে আমরা নূন্যতম বয়স সীমা জানতে পেরেছি ৷আমরা জানতে পেরেছি যেকোন বয়সে বিয়ে বৈধ তবে যতদিন পর্যন্ত স্ত্রী শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সংসার করার মত যোগ্যতা অর্জন করবেনা ততদিন পর্যন্ত স্বামীর সংসারে যেতে পারবে না ৷ সবচেয়ে ভাল হয় মাসিকের পূর্বে স্বামীর সংসার না করা ৷এ কারনেই রাসূল সাঃ বিয়ের পর তিন বছর অপেক্ষা করেন সংসার শুরু করার জন্য ৷ মনে রাখবেন, অনেক নারীদের দ্রুত শারীরিক বিকাশ হয় এবং অনেকেরই দেরীতে হয় ৷ সকলেরই এক বয়সে শারীরিক বিকাশ পরিপূর্ণ হয় না ৷ 
https://islamqa.info/en/22442


প্রশ্ন আসতে পারে, কেন বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নাই??? কারন পৃথিবীর সকল স্থানে মেয়েদের মাসিক বা maturity একই বয়সে হয়না ৷উষ্ণ অঞ্চলে তাড়াতাড়ি এবং শীত প্রধান অঞ্চলে maturity দেরিতে আসে ৷ ফলে যদি একটি বয়স নির্ধারন করা হত তবে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হত!
(বিঃদ্রঃ আয়েশা রাঃ নিজে বা উনার মা, বাবা কখনও এই বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেননি ৷)


উত্তর দিয়েছেন

ভাই চয়ন চৌধুরী  Chayan Chowdhury

14:00 Share:
Get updates in your email box
Complete the form below, and we'll send you the best coupons.

Deliver via FeedBurner

Labels

Contact Form

Name

Email *

Message *

Text Widget

Recent News

About Us

Your Ads Here
back to top